Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৩
কিডনি পাচার
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে

বাংলাদেশ থেকে কিডনি পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের শীর্ষ প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ পেয়েছে তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় বিদেশিদের কিডনি স্থানান্তরে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় পাচারকারী দালাল চক্র কলম্বোকে বেছে নিয়েছে তাদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে। কলম্বোর হাসপাতালেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিডনি স্থানান্তর সম্পন্ন করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ জন্য বেছে নেওয়া হয় ভারতের চেন্নাইকে। মূলত বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ২১ থেকে ৩০ বছর বয়স্ক তরুণদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় কিডনি। কিডনি পাচারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাপত্রে। কিডনি বেচাকেনা সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিকিৎসা দৈনিক পালসে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের কিডনি কালোবাজার’ শীর্ষক প্রতিবেদনেও এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কিডনি বাণিজ্যের মূল জোগানদাতা হয়ে কাজ করছে। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে কিডনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের কালোবাজারের কিডনি চাহিদার বেশির ভাগ পূরণ করছে বাংলাদেশ ও নেপাল। ভারতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা ও পাকিস্তানিদের বিদেশ যাত্রায় নজরদারির কারণে এই দুই দেশ থেকে কিডনি সংগ্রহ কমে এসেছে। বাংলাদেশে কিডনি বেচাকেনা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা থাকলেও চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বিশাল সংখ্যক লোকের ভিড়ে খুব সহজে কিডনি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট করানো সম্ভব হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করে দালালরা। অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিদেশে বাধ্য করা হচ্ছে কিডনি দিতে। পালসের প্রতিবেদনে বলা হযেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ১ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি রোগী কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায়। তাদের জন্য ডোনার ৫ হাজার। যাদের একাংশ বাংলাদেশি নাগরিক ও টাকার বিনিময়ে ডোনার হতে বাধ্য করা হয়েছে।   কিডনি পাচার দরিদ্রজনদের জীবনকে যেমন শঙ্কার মধ্যে ফেলছে তেমন ক্ষুণ্ন করছে দেশের সুনাম। কিডনি পাচার চক্রের তত্পরতা বন্ধে সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow