Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৪
সড়কপথে সতর্কতা
অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত
সড়কপথে সতর্কতা

ভুটানের পারো থেকে থিম্পু, সম্ভবত ৫০-৫৫ মাইল। বান্দরবান, রাঙামাটির পাহাড়ি রাস্তা, জয়পুরকোটার পাথর কাটা রাস্তা, এ ছাড়া দেশ-বিদেশে আমি যেসব রাস্তায় যাতায়াত করেছি, সেগুলো পারো-থিম্পু রাস্তার সঙ্গে কোনোভাবেই তুলনা করা যায় না।

  পাহাড়ের গা ঘেঁষে, যে রাস্তাটি বক্রাকারে সর্পিল গতিতে চলেছে, তাই শুধু নয়, নিচে ঝরনার ধারা, কল কল শব্দ সব মিলে এক অপরূপ দৃশ্য। এবার ছিল আমার দ্বিতীয়বার ভুটান যাওয়া। ঠিক ভ্রমণ বলব না। আগেও একবার গিয়েছিলাম ২০১২ সালে ভুটান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আতিথেয়তায়। সেবার সঙ্গী ছিলেন অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান, অধ্যাপক আবু সুফি আহমেদ আমিন, অধ্যাপক সামসুল আলম এবং অধ্যাপক রিজভী (অতি আপন বলে আবু নাসার যোগ করিনি)। ভুটানের স্নাতকোত্তর মেডিকেল চিকিৎসাকে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এবং অনেকটাই আমরা স্বার্থক হয়েছি। বর্তমানে যেই সংখ্যক ভুটানি ডাক্তার ভারতে উচ্চশিক্ষার জন্য যান ঠিক সমসংখ্যক বা কিছু বেশি বাংলাদেশে আসেন।

এবারের যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সঙ্গী তিনজনের একজন হলেন ডা. মাজহার মান্নান, যিনি আমার সঙ্গে সূচনা ফাউন্ডেশনে বিশিষ্ট মনোরোগ বিজ্ঞানী এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের মেন্টাল হেলথবিষয়ক উপদেষ্টা সায়মা হোসেনের সঙ্গে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসএবিলিটি নিয়ে কাজ করেন। অপরজন মি. মোনজ কুমার রায়, উপসচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং চতুর্থজন হলেন ডা. মারুফ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক। উদ্দেশ্য ভুটানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা অর্থাৎ অটিজম এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসএবিলিটি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার SEARO এর আঞ্চলিক পরিচালক সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছেন। ২০১১ এবং ২০১৪ সালে ঢাকায় আমরা যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম ভুটানে ওই মানের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা। সুতরাং চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে আমার ভুটানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি এবং পঞ্চম রাজার পত্নী রানীর পৃষ্ঠপোষকতায় চালিত Ability Bhutan Society এর সঙ্গে আলোচনা করার জন্য। এ উপলক্ষে চতুর্থ রাজার পত্নী যিনি ভুটানে ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম গঠন করে মাদকাসক্তি নিবারণ এবং আসক্তদের পুনর্বাসনে কাজ করেছেন, তার সঙ্গেও দেখা ও আলোচনা হয়েছে। বলছিলাম ৫০-৫৫ মাইল রাস্তা পরিভ্রমণের কথা। রাস্তায় চলতে গিয়ে কোথাও কোনো বাসকে ঝরনার পানিতে পড়তে দেখিনি, কোনো ট্রাককে কোনো গাছ বা পাহাড়ের পাদদেশে কোলাকুলি করতে দেখিনি, দেখিনি কোনো ছোট গাড়িকে, বড় গাড়ির পেটে আশ্রয় নিতে। কোনো ড্রাইভারকে দেখিনি ওভারটেক করতে, গতিসীমা কখনো ৫০ মাইলের বেশি বেগে চলতে। প্রতি আধা মাইল অন্তর রাস্তার মাইল পোস্টে অথবা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, শিক্ষণীয় বক্তব্য লিপিবদ্ধ আছে, যেমন, ‘If you are married, divorce speed’ অর্থাৎ ড্রাইভারের তার স্ত্রীর কথা স্মরণ করে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে।

কোথাও লেখা আছে ‘Drive slow, somebody is waiting at Home’। অর্থাৎ চালককে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সাবধানে স্বল্প গতিতে চালান, কেননা আপনার স্ত্রী ও সন্তানাদি আপনার জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছেন। এক জায়গায় লেখা আছে ‘Speed thrills but kills’ অল্প বয়সী চালকরা সাধারণত বেশি বেগে গাড়ি চালাতে শিহরিত হন। স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, দ্রুত বেগে গাড়ি চালালে শিহরিত হবেন, কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকছে। আরও লেখা আছে ‘Avoid over speed, drive carefully’ দ্রুত নয়। সতর্কতার সঙ্গে চালান।

Start early, drive slowly, reach safely অর্থাৎ বিলম্বে যাত্রা না করে, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছার পরিবর্তে, কিছু আগে যাত্রা করুন, আস্তে চালান এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেন। Safety first speed afterwards অর্থাৎ নিরাপদে চালান নিরাপত্তা প্রথম এবং গতি দ্বিতীয়। গতিকে নিয়ন্ত্রণ করুন। এ ছাড়াও ‘Remember you are driving on a high curve Road’ অর্থাৎ রাস্তার কোথাও বাঁক, কোথাও সরু বা কোথাও দুর্ঘটনাপ্রবণ, এসব বিস্তারিত লেখা উচিত। ‘Smooth road for soft & safe drive’, রাস্তা মসৃণ বা সমতল হলেই গতি বাড়ানো যাবে না। চালাতে হবে ধীরে এবং নিরাপদে। আরও দেখলাম কঠিন সতর্কবাণী ‘This is highway, not runway’.

আমাদের দেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ দ্রুতগতিতে গড়ি চালানো এবং নিয়ম না মেনে ওভারটেক করা।   এ ব্যাপারে চালকদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

তাছাড়া আমাদের সড়কগুলোতে ভুটানের সড়কের ন্যায় বিভিন্ন সতর্কবাণী লিপিবদ্ধ করে চালকদের সতর্ক করা যায় তাহলে দুর্ঘটনাও অনেক কমানো যাবে।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর
up-arrow