Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১০
আশুরায় করণীয়
মুফতি মো. ওলিউল্লাহ পাটওয়ারী
আশুরায় করণীয়

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম আগত প্রায়। মহররম মাসের দশ তারিখকে আশুরা বলা হয়। ইসলাম ধর্মে এ দিবসের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে।  অনেক তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এ দিনে। হজরত আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— রসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গমন করার পর ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ দিবসে কীসের রোজা রাখ? তারা বলল, এদিন আল্লাহতায়ালা হজরত মূসা (আ.) এবং তার কওম বনি ইসরায়েলকে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি দেন, আর ফেরাউনকে স্বদলবলে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করে দেন। অতএব আমরা এর শোকর আদায়ের লক্ষ্যে এবং উক্ত গৌরবময় দিনটির সম্মান জ্ঞাপনার্থে এ দিনটিতে রোজা রাখি। রসুলুল্লাহ (সা.) তাদের কথা শুনে বললেন, তোমাদের চেয়ে আমরা মূসা (আ.)-এর অনুসরণের বেশি দাবিদার। এরপর রসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় উম্মতগণকে এ দিনে রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন। বুখারি শরিফের হাদিসে রয়েছে হজরত আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য সময় তা দেখিনি। অন্যত্র বর্ণিত আছে— হজরত আলী (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মহররম মাস আল্লাহর মাস। এ মাসে আল্লাহতায়ালা একটি সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এ মাসে তওবা করে, আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তার তওবা কবুল করে থাকেন। অন্যত্র বর্ণিত আছে— হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ মহররম মাসে রোজা রাখে তাহলে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে ৩০টি রোজার সওয়াব লাভ করবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে— হজরত কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার ওসিলায় আল্লাহতায়ালা অতীতের এক বছরের ছোট-বড় সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। হজরত হাফছা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) চারটি আমল কখনো ছাড়েননি। যথা— ১. আশুরার রোজা। ২. জিলহজের প্রথম ১০ দিনের রোজা। ৩. প্রতি মাসে তিনটি রোজা। ৪. ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি মহররমের দশ তারিখে রোজা রাখবে, তার বিগত বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। তবে এর সঙ্গে নয় অথবা ১১ তারিখে রোজা রাখাও মুস্তাহাব। শুধু আশুরার দিন রোজা রাখলে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্যতা বোঝা যায়, এ জন্য আশুরার সঙ্গে আগের দিন বা পরের দিন আরও একদিন রোজা মিলিয়ে রাখবে। এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ কর; তথা আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখ।

লেখক : খতিব, বাইতুন নূর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ওলি মার্কেট, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর
up-arrow