Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৯
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপ
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শক্তি জোগাবে

সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় ঢাকায় সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপের ঐকমত্যকে একটি আশাজাগানিয়া ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে এ ঐকমত্য সন্ত্রাসবাদ নামের জঘন্য আপদের বিরুদ্ধে দুই দেশের সহযোগিতার পথ উন্মোচন করবে। সংলাপে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভিন্ন হুমকির মোকাবিলায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক ক্ষেত্রে জোরালো সমর্থন চেয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করেছে বাংলাদেশ। সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি দুই দেশ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাসংক্রান্ত নীতিমালাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সংলাপ শেষে দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইএসের মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভিন্ন হুমকির কথা বলা হয়েছে। সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স এবং অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য নিজ দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়। নিরাপত্তা সংলাপে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে গ্লোবাল পিস অপারেশন ইনিশিয়েটিভ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যে অবদান রাখছে তারও প্রশংসা পাওয়া গেছে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে। সংলাপে বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার সামর্থ্য বৃদ্ধিসহ উপকূলীয় এলাকায় ৬০০ বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও কোস্টগার্ডকে দ্রুতগামী বোট প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে স্বাগত জানানো হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে চলে আসছে। আগামী বছর ওয়াশিংটনে ষষ্ঠ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপের মাধ্যমে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশ একে অন্যের মনোভাব যেমন জানতে পারছে তেমন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতেও সমর্থ হচ্ছে। ঢাকায় সদ্যসমাপ্ত পঞ্চম সংলাপে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাসংক্রান্ত নীতিমালাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাতে দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে; যা একটি বড় অর্জন বলে বিবেচিত হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow