Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৯
মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা
মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব আলী

মহররম শুধু আরবি বর্ষপঞ্জিকা হিজরি সনের প্রথম মাসই নয়, এর সঙ্গে জড়িত দুনিয়ার প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)সহ অসংখ্য নবী-রসুলের পবিত্র স্মৃতি। আরবি মহররম শব্দের অর্থ অলঙ্ঘনীয় পবিত্রতা।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অভ্যুদয়ের আগে থেকেই আরব জাহানে চারটি মাসকে সম্মানের চোখে দেখা হতো। এ চারটি মাস হলো— জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। রসুল (সা.)-এর বিদায় হজেও এ চারটি মাসের প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। এ চারটি মাসকে শুধু মুসলমানের কাছেই নয়, আগের সব নবী-রসুলের আমলেও বরকতময় হিসেবে ভাবা হতো। এ মাসগুলোকে বলা হতো আশ শাহরুল হারাম বা অলঙ্ঘনীয় পবিত্র মাস। পবিত্রতার প্রতীক এ চার মাসের ইবাদত-বন্দেগিতে বান্দা যেমন বিশেষ সওয়াব লাভ করে তেমন এ চারটি মাসের মর্যাদা লঙ্ঘন করে কেউ যদি পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবে তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। মহররম শুধু হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস নয়, এর সঙ্গে জড়িত বহু নবী-রসুলের পবিত্র স্মৃতি। মহররম মাসে দুনিয়ার প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে আল্লাহ তার খলিফা নিযুক্ত করেন। জান্নাত থেকে পৃথিবীতে হজরত আদম ও বিবি হাওয়া বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাসিত হওয়ার পর ১০ মহররম মক্কার আরাফাত ময়দানে পুনর্মিলিত হন। হজরত নুহ (আ.) মহাপ্লাবন শেষে জুদি পাহাড়ে অবতরণ করে পৃথিবীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলেন এই মাসে। হজরত ইবরাহিম, আইয়ুব, দাউদ, সুলাইমান, ইউসুফ, ইয়াকুব, মুসা, ঈসা (আ.)সহ আরও অনেক নবীর পবিত্র স্মৃতি ধারণ করছে মহররম মাস। আখেরি নবী রসুলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতদের কাছে মহররম মাসের বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে। এ  মাসের ১০ তারিখে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন রসুল (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)। অসত্য, অন্যায়, অসাম্য ও ভোগবাদের বিরোধিতা করতে গিয়ে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। বর্বর ইয়াজিদ প্রস্তাব দিয়েছিল তাকে খলিফা হিসেবে মেনে নিলে হোসাইন (রা.) ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আঘাত হানা হবে না। তাদের সসম্মানে যেখানে ইচ্ছা যেতে দেওয়া হবে। কিন্তু রসুলে করিম (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র অন্যায়কারীদের সঙ্গে আপসের চেয়ে জীবন উৎসর্গ করাকেই শ্রেয় বলে বেছে নেন। মহররম মাসে আমাদের সবারই উচিত বেশি বেশি ইবাদত করা, বিশেষত ১০ মহররম আশুরা দিবসে নফল সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টিবিধানে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারি।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow