Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৭
আলী আমজাদের ঘড়ি
আফতাব চৌধুরী
আলী আমজাদের ঘড়ি

সিলেট শহর চারদিকে টিলাবেষ্টিত এক মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। সমতল এবং টিলার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ শহরের ভিতর দিয়েই বয়ে চলেছে নদী সুরমা। এক সময় এ নদী দিয়ে চলত বড় বড় জাহাজ। জাহাজের সিটিধ্বনি শহরবাসীর মনে দূর-দূরান্তের ছবি ফুটিয়ে তুলত। সিলেট শহরের আছে অনেক ছোট বড় টিলা। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক অনেক কাহিনী ও স্মৃতি। সিলেট শহরের প্রবেশ পথ খ্যাত কিনব্রিজ বহু পরিচিত। বর্তমানে আরও কটি সেতু নির্মিত হলেও কিনব্রিজের ঐতিহাসিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রয়েছে। ১৯৩৬ সালে নির্মিত এ সেতুর ওপর দিয়ে ঢুকতে হতো সিলেট শহরে। শহরে প্রবেশ করতেই দর্শকদের চোখে পড়ত ব্রিজের পশ্চিম পাশে ঘড়িটির দৃশ্য। বিশাল আকারের ঘড়ি। বড় বড় কাঁটা। অনেক দূর থেকে চোখে পড়ে। ঘড়ির জন্য নির্মিত হয়েছে রীতিমতো বিশাল একটি কাঠামো। আলমিরার মতো এ কাঠামোটাকে অনেকেই ঘড়িঘর বলে সম্বোধন করে থাকেন আজও। ঘড়িটির সঙ্গে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত। পশ্চিম পাশার জমিদার ছিলেন আলী আমজাদ খাঁ। তার পিতাও ছিলেন জমিদার। নাম আলী আহমদ খাঁ। দানবীর আলী আমজাদ খাঁ দিল্লিতে দেখে এসেছিলেন এরূপ একটি বিশাল আকারের ঘড়ি। দর্শনীয় স্থানে এরূপ একটি ঘড়ি স্থাপনে তিনি মনস্থির করলেন। অবশেষে ঠিক হলো এটা হবে সুরমার তীরে। সিলেট শহরের প্রবেশ মুখে। হলোও তাই। দর্শনীয় স্থানে এমন একটি বিশাল ঘড়ি স্থাপন প্রযুক্তির দিক থেকে যেমন ছিল বিস্ময়কর তেমনি সামাজিক দিক থেকেও ছিল উল্লেখযোগ্য অবদান। তাছাড়া শত বছর আগের অবস্থাও ছিল অন্যরকম। গড়ির এতটা প্রচলন ছিল না। সময় জানতে হলে সূর্যের দিকে তাকাতে হতো, না হয়তো কাউকে জিজ্ঞেস করতে হতো কয়টা বাজে?

এই পাতার আরো খবর
up-arrow