Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩০
ভণ্ড পীরের ভণ্ডামি
ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত গুরুতর অপরাধ

রাজধানীর লাগোয়া জনপদ নবাবগঞ্জ দোহারে এক ভণ্ড পীরের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। টিভি চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরে গত শনিবার রাতে হজবাবা নামে পরিচিত এই ভণ্ড পীরের ভণ্ডামির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন অতিদ্রুত অভিযান চালায় ভণ্ড পীর মতিউর রহমানের আস্তানায়।

সিলগালা করে দেওয়া হয় আস্তানা। এ সময় উত্তেজিত জনতা আস্তানায় ভাঙচুর চালায়। ভণ্ড পীরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এ প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে পুলিশ জনতাকে নিবৃত রাখতে সক্ষম হয়। ভণ্ড পীরের আস্তানায় সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত সৃষ্টিকারী অপকর্ম চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। ভণ্ড পীর তার অনুসারীদের বলতেন হজ পালনের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে মক্কায় যাওয়ার দরকার নেই। কাবাগৃহের আদলে ৫ ফুট বাই ৫ ফুটের একটি কালো ঘর তৈরি করেছিলেন তিনি তার আস্তানায়। সেই কালো ঘরের চারদিকে তাওয়াফ করলে হজ করা হবে এ তত্ত্বও তিনি প্রচার করতেন তার মুরিদদের কাছে। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক রব তুলে কাবাঘর তাওয়াফের অনুকরণে হজের সাদা পোশাক পরে পীরের অনুসারীরা সেই ঘর প্রদক্ষিণ করতেন। পীরকে তারা সেজদা দিয়ে নিজেদের ভক্তি শ্রদ্ধাও জানাত। পীরের আস্তানায় নিজস্ব স্টাইলে হজ পালনের পাশাপাশি পালন করাও হতো ঈদ উৎসব। হিন্দি গানের সুরে চলত নারীদের উদ্দাম নৃত্য। ভণ্ড পীরের সেবাযত্ন এবং গা হাত মালিশের জন্য নিয়োজিত থাকত একদল নারী। দীর্ঘদিন ধরে ভণ্ড পীরের আস্তানায় সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী কার্যকলাপ চললেও এ বিষয়টি প্রায় গোপন ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য। পীরের ক্যাডার বাহিনীর ভয়েও মুখ খুলতেন না এলাকাবাসী। নিউজ টোয়েন্টিফোরে ভণ্ড পীরের ভণ্ডামির নানা চিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। ভণ্ড পীর ও তার অনুচরদের আইনের আওতায় আনতে তারা তাত্ক্ষণিকভাবে অভিযানও চালান। অপরাধীরা তার আগেই কেটে পড়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভণ্ড পীরের আস্তানা সিলগালা করে দেওয়া হয়। মানুষের ধর্মীয় আবেগে আঘাত হানা একটি গুরুতর অপরাধ। বিশেষত হজের মতো একটি স্পর্শকাতর ইবাদত নিয়ে ভণ্ড পীরের ভণ্ডামি দেশের ধর্মভীরু মানুষের আবেগে আঘাত হেনেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এ ধরনের ভণ্ডামির সাহস না পায় তা নিশ্চিত করতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এমনটিই কাম্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow