Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৯
পবিত্র আশুরা
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই অপরাজেয়

পবিত্র আশুরা অর্থাৎ ১০ মহররমের দিনটি বিশ্বাসীদের কাছে নানা কারণে তাত্পর্যপূর্ণ। এ দিনে দুনিয়ার প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় আবার এ দিনে বিবি হাওয়া (আ.)সহ তাকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নির্বাসনে পাঠানো হয়।

এ পবিত্র দিনেই তারা আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেন। আশুরার সঙ্গে অসংখ্য নবীর স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। ১৩৭৭ বছর আগে হিজরি ৬১ সনের এই দিনে কারবালার প্রান্তরে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) শাহাদাতবরণ করেন। ইসলামী বিধানকে ভ্রুকুটি দেখিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগতকারী ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়াকে খলিফা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। অন্যায়ের কাছে মাথানত করার বদলে শাহাদাতবরণকেই শ্রেয় বলে মনে করেছিলেন এ মহাপুরুষ। ইমাম হোসাইন (রা.) তথা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রক্তের উত্তরাধিকার এবং তাদের অনুসারীদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা এ দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বিশ্বাসী মানুষ। শোকাবহ এ দিনটি তাদের কাছে অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার দিন। কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার শিক্ষা দেয়। সত্যের সঙ্গে অসত্যের লড়াই এক চিরন্তন সত্য। মক্কার বুকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে চলার যে জীবন বিধান প্রবর্তন করেন তাতে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে অসত্য, অসুন্দর ও অকল্যাণের প্রতিভূরা। একপর্যায়ে তারা বাহ্যিকভাবে ইসলামী পতাকার নিচে আশ্রয় নেয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর শুরু হয় গোত্রতন্ত্র ও কায়েমি স্বার্থের ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্রে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয় নবী দৌহিত্র হজরত হাসান (রা.)-কে। কারবালায় ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে পরিবার-পরিজন এবং ৭২ জন অনুসারীসহ শাহাদাতবরণ করেন ইমাম হোসাইন। কারবালার ঘটনা শিক্ষা দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যে লড়াই তা অপরাজেয়। ইয়াজিদ বাহিনী হোসাইন (রা.), তার পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীদের জীবন কেড়ে নিতে পারলেও ইতিহাস তাদের আদর্শের অমরতাকেই স্মরণ করে। অন্যায় যুদ্ধে ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া জয়ী হলেও সে জয় ছিল পরাজয়ের চেয়েও লজ্জাকর। পক্ষান্তরে হজরত হোসাইন (রা.)-কে ইতিহাসে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে যুগে যুগে স্মরণ করা হবে শ্রদ্ধার সঙ্গে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow