Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০৬
লিবিয়ায় মানব পাচার
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে লিবিয়ায় পাচারের সময় ৩৯ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। ভুয়া ভিসায় একদল লোককে লিবিয়ায় পাচার করা হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে গত বুধবার রাতে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালায়।

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩০ জন পাচারকারীর নাম ঠিকানা পেয়েছে তারা। এর সঙ্গে সিলেটের দুটি ট্রাভেল এজেন্সিও জড়িত। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে সিলেটের বাসিন্দাই বেশি। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও রয়েছেন। যাদের প্রায় সবার বয়স ৩০-এর নিচে। সিলেটের যারা বাসিন্দা তাদের অধিকাংশকে লিবিয়া হয়ে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাকিদের লিবিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য জড়ো করা হয়েছিল। ৩৯ জনের মধ্যে ১৯ জন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগের অনুমতি পেয়েছিলেন। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভুয়া ভিসার বিষয়টি জানতে পেরে তাদের বিমানে ওঠার আগে আটকাতে সক্ষম হন র‌্যাব কর্মকর্তারা। ২০ জনকে বিমানবন্দরে প্রবেশের আগে আটকানো হয়। তবে র‌্যাব অভিযানের আগেই আরও ২১ জন ভুয়া ভিসা নিয়ে লিবিয়া চলে যেতে সক্ষম হয়। পাচারকৃতরা তথাকথিত আদম বেপারিদের সঙ্গে লিবিয়া যাওয়ার জন্য ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। তবে ৩৯ জনের মধ্যে শুধু একজন এক লাখ টাকা ও আরেকজন ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেয়। বাকিদের লিবিয়া পৌঁছানোর পর টাকা দেওয়ার কথা ছিল। মানব পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। ভুয়া ভিসায় লিবিয়ায় লোক পাঠিয়ে সেখানে পাচারকৃতদের জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনা অহরহ ঘটছে। জিম্মিদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে অভিভাবকদের যেভাবেই হোক অর্থ দানে বাধ্য করছে সুসংবদ্ধ পাচারকারীরা। র‌্যাব সদস্যরা পাচারকারীদের যে ৩০ জনের তালিকা পেয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করা হবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই। পাচার কর্মকাণ্ডে জড়িত ট্রাভেল এজেন্টগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটিও প্রত্যাশিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow