Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৪
বিএনপির নমিনেশন বেপারিরা দলের ঐক্য চায় না
কাজী সিরাজ
বিএনপির নমিনেশন বেপারিরা দলের ঐক্য চায় না

সম্প্রতি একটি খবর বেরিয়েছিল যে, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার অনুসারী সংস্কারপন্থিদের আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ‘হাইকমান্ড’ নাকি সবুজ সংকেত দিয়েছে। এ রকম সবুজ সংকেত কিন্তু নতুন নয়। কোনো দলের হাইকমান্ড বলতে সর্বোচ্চ কোনো কমিটিকে বোঝায়, যেখানে দলের নীতিগত, কর্মসূচিগত ও সংগঠনগত জরুরি সিদ্ধান্তাবলি নেওয়া হয়।  এক্ষেত্রে নিয়মরীতি হচ্ছে, কোনো একটি বিষয় সর্বোচ্চ সেই কমিটিতে উপস্থাপন, চুলচেরা বিশ্লেষণ ও সর্বসম্মত বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়। পরে সে অনুযায়ী কর্মপন্থা বা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। বিএনপিতে স্থায়ী কমিটির নামে একটা নীতিনির্ধারণী কমিটি আছে বটে, তবে তা যে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্থায়ী কমিটির সব সদস্যের নাম দলের নেতা-কর্মীদের অনেকেও জানেন না। এ কমিটিতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ডক্টর খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ডক্টর মইন খান, জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মাঠের সংগঠক মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানের মতো ব্যক্তিরা থাকতেও নীতিগত বা কর্মসূচিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এদের কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না। মনে হয় না এই কারণে যে, এরা সবাই মিলে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে বিএনপি এত ভুল করার কথা নয়। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চেয়ারম্যান থাকাকালে বিএনপির প্রথম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। তখন স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ১১। সেই জিয়ার স্থায়ী কমিটির তিনি একাই আছেন বর্তমান কমিটিতে। সেই বিএনপিকে চেনা-জানা যারা এখনো আছেন, তারা একবাক্যে স্বীকার করবেন, জিয়াউর রহমানের কাছে ব্যারিস্টার মওদুদের স্থান ছিল আস্থার ও মর্যাদার। জিয়া জানতেন, ব্যারিস্টার মওদুদ একজন দক্ষ আইনজীবীই শুধু নন, তিনি একজন ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদও। তার লেখনী শক্তিও অত্যন্ত জোরালো। রাজনীতির এক দক্ষ কুশীলব তিনি। ভাষা আন্দোলনের উত্তঙ্গ-উত্তাল দিনগুলোতে মওদুদ আহমদ ছিলেন মিছিলে রাজপথ কাঁপানো সৈনিক। ভাষার লড়াই করতে গিয়ে প্রথম নিক্ষিপ্ত হন কারাগারে। কারাগারে জন্ম হয় নতুন আরেক মওদুদ আহমদের— সচেতন এক রাজনৈতিক কর্মীর। ধীরে ধীরে হন নেতা। কারও দয়ায় নয়, আপন যোগ্যতায়। ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদে অন্যতম সম্পাদক ছিলেন তিনি। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নেতৃত্ব দেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির। এক সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও প্রিয়পাত্র ছিলেন তিনি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তিনি বঙ্গবন্ধুর অন্যতম আইনজীবী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রমী মওদুদ আহমদকে মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পোস্ট মাস্টার জেনারেলের দায়িত্ব দিয়েছিল। তার উজ্জ্বল রাজনৈতিক অতীত ও অসাধারণ মেধার মূল্যায়ন যথার্থভাবেই করেছিলেন জিয়াউর রহমান। শোনা যায়, এখন তিনি স্থায়ী কমিটিতে আছেন স্রেফ অলঙ্কার হিসেবে। ড. খোন্দকার মোশাররফ বিএনপিতে আসার একটা রোমাঞ্চকর কাহিনী আছে। প্রেসিডেন্ট জিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রদের প্রচণ্ড বাধার মুখে পড়েন। ছাত্ররা রাস্তায় শুয়ে পড়ে তার গতিরোধ করে। ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন জিয়া। তরুণ অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোশাররফ তখন ছাত্রদের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ কর্মসূচিতে একাট্টা। উত্তপ্ত কিছু বাক্যবাণ জিয়ার উদ্দেশ্যে। জিয়া টার্গেট করেন তাকে— শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বুকের কাছে টেনে নেওয়ার জন্য।

ড. মোশাররফও সাড়া দেন। তার বিএনপিতে যোগদানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের চেহারা বদলে যায়— হয়ে ওঠে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন। জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে তখনই খোন্দকার মোশাররফ হতেন বিএনপির অনেক বড় নেতা। স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে ফরমাল দু-একটি সভায় এটেন্ড করা ছাড়া নীতিনির্ধারণে সঠিক ভূমিকা এরা রাখতে পারলে তাদের প্রিয় দল এমন ‘খাবি’ খায়? মির্জা আব্বাস এবং নজরুল ইসলাম খানও জিয়াউর রহমানের বাছাই, প্রডাক্ট বললে জানি না উনারা রাগ করবেন কিনা! একজন যুবকদের নিয়ে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। যুব সংগঠনকে গড়ে তুলেছিলেন বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে। আর নজরুল ইসলাম খান শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিক আন্দোলন করেছেন বিএনপি প্রতিষ্ঠারও আগে থেকে। স্থায়ী কমিটিতে থেকে এরাও কিছু করতে পারছেন বলে অভিজ্ঞজনরা মনে করেন না। আন্দোলন ও সংগঠন গড়ায় এদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলেও বিএনপি অনেক লাভবান হতো। রাজনৈতিক দলে অভিজ্ঞ ও ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদদের মূল্য-মর্যাদা না থাকলে, যোগ্যতা-অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি না থাকলে, গুণ ও গুণীর কদর-সম্মান না থাকলে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও একটি দল অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। বিএনপির হয়েছে সেই দশা। দল চালানো হয় নেতা দিয়ে নয়, কর্মচারী দিয়ে। তাই বলাই চলে ‘হাইকমান্ড’ বলতে একটা রাজনৈতিক দলে যা বোঝায়, বিএনপিতে আসলে কার্যকর তেমন কিছু নেই। এখানে হাইকমান্ড বলতে বাস্তবে আছেন দুজন— চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারা যা বলেন তাই এখন দলের সবাই অবনত মস্তকে মেনে নিতে বাধ্য। কমিটি-টমিটি যেসব আছে তা উল্লিখিত দুজনের ‘সুইট ডিজায়ারে’ ডি-টু মারার জন্যই আছে বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। প্রেসিডেন্ট জিয়া বিএনপি গড়েছিলেন জনগণের দল হিসেবে। দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদীদের মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল বিএনপি। সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ এবং আধিপত্যবাদবিরোধী একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান তখন ছিল কালের দাবি, সময়ের চাহিদা। জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় তার ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় আওয়ামী লীগের প্রতি। যে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বাস্তবতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেছে, সেসব বাস্তবতা এখনো বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও বিএনপি তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না, গণপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলটাও অনেকটা সহনীয় ছিল। কিন্তু তারপর থেকেই শুরু হয় স্খলন। একজন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া দলের আদর্শবাদী নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী-সংগঠকদের নিয়ে প্রাণান্তর প্রয়াস চালিয়েছেন দলের স্খলন ঠেকাতে। পারেননি। ছিয়ানব্বই-পরবর্তী লীগ সরকারের আমলে তাকে কখনো উদারপন্থি কখনোবা সরকারের দালাল বলে মহাসচিব পদ থেকে হটানোর চেষ্টাও করেছিল কট্টরপন্থি নামধারী একটি দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপ। ওয়ান-ইলেভেনের পর দুর্নীতির দায়ে সেই গ্রুপের অনেকেই কারারুদ্ধ হন। বিএনপির এককালীন যুগ্ম মহাসচিব (শহীদ জিয়ার সময়ে) ফেরদৌস কোরেশীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘কিংস পার্টি’ খ্যাত পিডিপি। বিএনপির সাবেক প্রায় ১৪০ জন এমপি নাম লেখান সেই দলে। দল প্রায় ভেঙেই যায়। দলের তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করে দলে-গণতান্ত্রিক চর্চা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের ডাক দিয়ে একদিকে ভাঙন রোধ করেন এবং অন্যদিকে স্খলন থেকে দলকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে অনেক কথা হয়েছে, আরও হবে। বিএনপিকে যারা ভালো করে চেনেন ও জানেন, তারা যদি সংস্কারপন্থি ও এর বিরোধীদের দুপাশে রেখে বিবেচনা করেন, তাহলে সংস্কারপন্থিদের পক্ষেই অধিকাংশ অধিকতর যোগ্য ও  তুলনামূলক ভালো লোক পাওয়া যাবে। অনেকে প্রশ্ন করেন, এখন যারা সংস্কার এবং সংস্কারপন্থিদের ‘প্রচণ্ড’ বিরোধিতা করছেন, প্রথম ধাক্কায় দুর্নীতির দায়ে তারা যদি অ্যারেস্ট হয়ে না যেতেন, তারা কী করতেন? কোনদিকে থাকতেন? বর্তমানে তাদের ভূমিকা দিয়েই তাদের তখনকার ভূমিকা কী হতো তা আন্দাজ করতে চান এ মহল। এখন তো আবদুল মান্নান ভূঁইয়া নেই, সংস্কারপন্থিরা নেই, ব্রিগেডিয়ার আমিন, ব্রিগেডিয়ার বারী নেই, বিএনপি তার সরব ও সবল অস্তিত্বও জানান দিতে পারে না কেন? বার বার কেন ব্যর্থ হয় বিএনপি? কারা আন্দোলন সংঘটনের, হরতাল-অবরোধের দায়িত্ব নিয়ে মাঠ-ময়দান থেকে উধাও হয়ে যান, কেন উধাও হয়ে যান, এই সংস্কার ও সংস্কারপন্থি-বিরোধী ‘বিপ্লবীদের’ কাছে এ প্রশ্ন রাখাই যায়। সংস্কারপন্থিদের নিয়ে বিএনপি কী করবে ‘হাইকমান্ড’ দলের ঐক্য বিরোধীদের (নাকি ঐক্যবিনাশী সরকারের সহায়ক?) চাপে ‘গলে’ যাবেন কিনা সেটা বিএনপির ব্যাপার। তবে আমার করুণা হয় সংস্কারপন্থিদের জন্য। বিএনপিতে ঢোকার জন্য তারা এত পাগল হলেন কেন? আমি প্রায় গোটা বিশেক সংস্কারপন্থি সাবেক এমপির খবর জানি, যাদের পায়ের নিচে শক্ত মাটি আছে, এলাকায় জনপ্রিয়তা আছে। হ্যাঁ, এটা সত্য, ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলে তারা জিতে যেতে পারে। রাজনীতিটা কি শুধু এমপি হওয়ার জন্য? অন্যদিকটা বিএনপির ‘বিপ্লবীরা’ও ভাবেন না কেন যে, সংস্কারপন্থি বেশ কিছু সাবেক এমপির নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়েও জামানত রক্ষা করার লোকও তাদের নেই, জেতার চিন্তা তো দূরের কথা। তবে এটা ঠিক যে ওইসব আসনে নমিনেশন বেপারিদের লাভ হতে পারে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, বিএনপির সংস্কার বিরোধীদের অধিকাংশের নির্বাচনী এলাকাই নেই। ভোটে দাঁড়ালে কেউ লড়াই করবেন জেতার জন্য, এরা লড়াই করবেন ‘তিনজনের মধ্যে থার্ড হওয়া’ ঠেকানোর জন্য। একাই বড় বড় আওয়াজ দেয়। এদের বোঝার ক্ষমতাও নেই যে, এদের ‘মুরোদ’ মানুষের জানা আছে।

১৪ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে লেখা হয়েছে, নমনীয় কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ বিএনপি। তারা নাকি দল গোছানোর কাজ করছে। বাংলাদেশে না বিদেশে? দল গোছানোর আওয়াজ তো শোনা যাচ্ছে দুই বছর ধরে। কবে শেষ হবে বিএনপির দল গোছানোর কাজ? দেশের কোথাও তেমন তত্পরতা তো চোখে পড়ে না। কোনো জেলা বা উপজেলায় দলের কাউন্সিল বা সম্মেলনের কোনো খবর তো চোখে পড়ে না। আসলে এটা একটা উসিলা। একটি ইনক্লুসিভ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করার জন্য রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামার কোনো সক্ষমতাই এখন বিএনপির নেই বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। একটা স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য কিছু করতে পারে বিএনপি। করছে কই? যার ভাবমূর্তি সম্বল করে বিএনপি এখনো জনসমর্থনে ধন্য, সেই জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, বিএনপি নির্বিকার। রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। এখন শোনা যাচ্ছে, প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জ, রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমেই তারা এ ব্যাপারে ‘তুমুল লড়াই’ চালাবেন আর দলের নয়াপল্টন অফিসে প্রেস ব্রিফিং। জঙ্গিবিরোধী ঐক্য ও আন্দোলনের কথাও বলেছিল বিএনপি। একটা সুযোগ ছিল মাঠে নামার। বেগম জিয়া এ কর্মসূচিতে রোডমার্চ, লংমার্চ করে জনসচেতনতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করতে পারতেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, দুই কারণে তাও হয়নি। (এক) জঙ্গিবাদবিরোধী তেমন অভিযানে তাদের জোটসঙ্গী জামায়াত রুষ্ট হবে। (দুই) তেমন একটি কর্মসূচি দিলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদেরও তার সঙ্গে থাকতে হবে। কিন্তু সরকারি রোষানলে পড়ে কেউ বিপদ ডাকতে চান না। তাই ভরসা হারিয়ে এবং হাজার হাজার মামলা-মোকদ্দমার ‘গীত গেয়ে’ এমন একটি কর্মসূচিও বাতিলের খাতায়। তাহলে কী করবে বিএনপি? আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি থেকেও দলটি সরে এসেছে বলে মনে হয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনের জন্যই বা দলটির প্রস্তুতি কোথায়! আওয়ামী লীগ তো যে কোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের কাউন্সিলে তারা আরও সুগঠিত হবে।

এমতাবস্থায় বিএনপির দরকার দলের কোন্দল মেটানো, রাজনীতি পরিষ্কার করা, জামায়াত প্রশ্নে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা— হয় জামায়াত সঙ্গে থাকবে নতুবা থাকবে না এবং সর্বোপরি দলকে ঐক্যবদ্ধ করা কে সংস্কারবাদী আর কে কুসংস্কারবাদী তা নিয়ে দলের বিভক্তি-বিভাজন আরও শার্প করা নয়। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘হাইকমান্ড’ বলতে যা বোঝানো হয় সেই হাইকমান্ডকে ইফেক্টিভ করা, রাজনীতিবিদদের গুরুত্ব দেওয়া, তাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া, বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য পরিণতির কথা ভেবে দলের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপির কাছে জনগণের একটা প্রত্যাশা আছে। মুসলিম লীগের জুতা পরে সে প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়।  বিএনপি বার বার ব্যর্থ হলে জনগণ তাদের দিকেই কেবল তাকিয়ে থাকবে অথবা বিদেশি কোনো ‘প্রভু’ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে তেমন ভাবনা অসুস্থ ভাবনা। বিএনপির এই অসুস্থতা কাটাতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

ই-মেইল : kazi.shiraz@yahoo.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow