Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৫
১০ টাকা কেজির চালে দুর্নীতি
চোরা ও চাটার দলকে সামাল দিন

বঙ্গবন্ধুর ভাষায় যারা চোরা এবং চাটার দল সেই ঘৃণ্য চক্র উঠেপড়ে লেগেছে সরকারের একটি মহৎ কর্মসূচিকে গিলে খাওয়ার জন্য। হতদরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা দরে চাল সরবরাহের সাড়া জাগানো কর্মসূচিকে তারা লুটেপুটে খাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখায় গরিব মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। সরকারের এ মহৎ প্রকল্পটিকে ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের যে অশুভ চক্র গড়ে উঠেছে তাদের কালো হাতের থাবায় পুরো প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে পারে এমন আশঙ্কাও সৃষ্টি হচ্ছে। সাড়া জাগানো কর্মসূচিটির সূচনা হয়েছিল গত ৭ সেপ্টেম্বর। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু হতদরিদ্রদের উপকৃত হওয়ার কথা থাকলেও টাউট ও বাটপারদের কারসাজিতে হতদরিদ্রদের যে তালিকা তৈরি হচ্ছে তাতে অবলীলায় ঢুকে পড়েছে ধনীদের নাম। ডিলার নিয়োগেও উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। যে কর্মসূচির বদৌলতে সরকারের সঙ্গে দেশের গরিব মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছিল তার বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি হতাশার সৃষ্টি করছে। সংবাদ মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্ড ও ডিলার নিয়োগে যে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে তাতে স্পষ্টভাবে বলা যায়, চোরা ও চাটার দলকে সামাল দিতে না পারলে তা সরকারের জন্যই বিড়ম্বনা ডেকে আনবে। হতাশার মধ্যে আশার আলো হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি। তিনি সাফ সাফ বলে দিয়েছেন, ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণসহ হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সংসদ সদস্যসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার তালিকায় অনিয়ম থাকলে খুঁজে বের করারও নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করব প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ শুধু নির্দেশদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারেও তিনি সজাগ থাকবেন। গরিব মানুষের জন্য কল্যাণকর এ কর্মসূচি যাতে সরকারের শিরস্ত্রাণে সাফল্যের সোনালি পালক হিসেবে বিবেচিত হয় তা নিশ্চিত করতে দুর্নীতিবাজদের  সামাল দেওয়ার সব চেষ্টাই চালানো হবে এমনটিই প্রত্যাশিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow