Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৭
মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও বিজ্ঞান
মো. মঈনুল ইসলাম

মহান রাব্বুল আলামিনের প্রেরিত অসংখ্য আসমানি কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল কোরআন। যা ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে রসুল (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।

কোরআন শুধু ইহলৌকিক বা পারলৌকিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়নি; পাশাপাশি মানব জাতির উত্পত্তি ও ক্রমবিকাশ, মহাকাশ সম্পর্কে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ও এতে আলোচিত হয়েছে। তাই বলা যায়, কোরআনের সঙ্গে বিজ্ঞানের সম্পর্ক বিশেষভাবে জড়িত। কোরআনে মানব জীবনের সার্বিক বিষয়সহ মহাকাশ ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিষয়ে সব দিকনির্দেশনা রয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর আজকের বিজ্ঞানের উৎকর্ষের মূলে রয়েছে কোরআনভিত্তিক গবেষণা। তাই বিজ্ঞান পবিত্র কোরআনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কোরআনের সঙ্গে বিভিন্ন বিজ্ঞানের সম্পর্ক উপস্থাপনা করা হলো।

কোরআন ও প্রাণিবিজ্ঞান : আধুনিক বিজ্ঞান প্রাণিজগৎ ছাড়াও সৃষ্টিজগতের প্রতিটি কণা-অনুকণার মধ্যে যে প্রচণ্ড শক্তি আবিষ্কার করেছে, তা প্রাণশক্তির বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

শুধু তাই নয়, আমরা অনড় নিশ্চল শিলাখণ্ডকে নির্জীব-নিষ্প্রাণ বলে মনে করি। কিন্তু পবিত্র কোরআনে সেগুলো প্রাণবন্ত বলে অভিহিত হয়েছে।

কোরআন ও জ্যোতিষ্ক বিজ্ঞান : আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণামতে পৃথিবী স্বীয় অক্ষের ওপর নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বক্ষণ ঘুরছে। অথচ আল কোরআনে বহু আগেই এ কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাশূন্যে অসংখ্য নক্ষত্র তীব্রগতিতে ছুটে বেড়াচ্ছে। পবিত্র কোরআন এ ধারণা বহু আগেই দিয়েছে। আল কোরআনে মহাশূন্য চলমান, সূর্য, গ্রহ ও উপগ্রহ পুঞ্জের অবস্থানের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আল কোরআন ও পৃথিবী : বিজ্ঞানীদের মতে, ভূগর্ভ বিজ্ঞানের অন্তর্গত গর্ভস্তরই পর্বত সৃষ্টির মূল কারণ। ভূগর্ভে রয়েছে গরম ও তরল পদার্থ। অথচ ওপরে কত নরম ত্বক এবং নানা সবুজ গাছ-গাছালি। এ প্রসঙ্গে আল কোরআনে বলা হয়েছে : ‘আমরা কি এই পৃথিবীকে বিছানা আর পর্বতগুলোকে খুঁটির মতো সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করিনি?’

আল কোরআনে আরও বলা হয়েছে : ‘তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা বানিয়ে দিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য রাস্তা করে দিয়েছেন। তাতেই ফলাদির বৃক্ষ জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। ’

কোরআন ও মানব সৃষ্টি : মানব সৃষ্টি সম্পর্কে কোরআন বলেছে, চারটি পদার্থ যথা মৃত্তিকা, পানি, বায়ু ও তাপ থেকে প্রথমে একজন মানব সৃষ্টি করা হয়েছে, তারপর একজন মানবী সৃষ্টি করা হয়েছে। পরে এ যুগল মানব-মানবীর মহামিলন প্রক্রিয়ায় বংশধারা চলে আসছে।

পরিশেষে বলতে চাই, আল কোরআন শুধু ইহকাল আর পরকাল নিয়ে আলোচনা করে না। বরং এতে পৃথিবীর সব রকম জ্ঞান-বিজ্ঞান, ক্রমবিকাশ উত্পত্তি ধারণাক্রম ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

     লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow