Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৬
দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য
বিশ্বব্যাংকের স্বীকৃতি বড় অর্জন

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্যকে শুধু প্রশংসা নয়, কীভাবে এ অনুকরণীয় সাফল্য অর্জিত হলো তা দেখতে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। বলেছেন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক পাশে থাকবে। এ উদ্দেশ্যে আগামী তিন বছরে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা ৫০ ভাগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী দুই বছরে শিশু অপুষ্টি রোধে বাড়তি ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। মাত্র তিন বছর আগে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির কল্পিত অভিযোগ তুলে প্রতিশ্রুত ঋণ দিতে অস্বীকার করেছিল বিশ্বব্যাংক। ঋণ ছাড় দেওয়ার আগেই কীভাবে সে অর্থ নিয়ে দুর্নীতি হয় সে প্রশ্ন তোলা হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। সে বিশ্বব্যাংক প্রধানের মুখে ভিন্ন সুর নানা কারণেই তাত্পর্যের দাবিদার। পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের পিছটান বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে বিপাকে ফেলে। তবে বিশ্বব্যাংকের এই অন্যায্য সিদ্ধান্তে পিছু না হটে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে একই সঙ্গে রেল যোগাযোগের ব্যয়বহুল পরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত তিন বছরে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সঠিক পথে চলছে বাংলাদেশ। একই সময়ে একের পর এক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাংলাদেশ দাতা দেশ ও সংস্থার কাছে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য যে অনুকরণীয় তা স্বীকার করার পাশাপাশি এ সাফল্য দেখার জন্য বিশ্বব্যাংক প্রধানের সফর বাংলাদেশের মর্যাদাই বাড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশি নেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে বলেছেন, ১৯৫৯ সালে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার সময় শর্ত পূরণের মতো সক্ষমতাও তাদের ছিল না। কিন্তু দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে জনগণের পিছনে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া আজকের পর্যায়ে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষেও দক্ষিণ কোরিয়ার কাতারে শামিল হওয়া যে সম্ভব সে আশার কথাও শুনিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন তা আশা জাগানিয়া ঘটনা। আমরা আশা করব অতীতের তিক্ততা ভুলে নতুন পথচলার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের চলতি সফর অবদান রাখতে সমর্থ হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow