Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৪
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ
ব্যবসায়ের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের বাংলাদেশ সফর বৃহত্তম এই দাতাসংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ়করণের পথ রচনা করেছে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে এই দাতাসংস্থার সম্পর্কে চিড় ধরায়।

জিম ইয়ং কিমের সফরের লক্ষ্য ছিল সেই চিড় ধরা সম্পর্ক জোড়া লাগানো। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা করেছে। দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অংশীদারের ভূমিকা পালন করেছে তারা। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংক নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেও গত তিন বছরে অন্য সব প্রকল্প বাস্তবায়নে দাতাসংস্থাটি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সফরের পর এ দাতাসংস্থার সহযোগিতা নতুন সোপানে উন্নীত হয়েছে। আগামী তিন বছরে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই বিলিয়ন ডলার সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন এবং নিম্নমধ্য আয়ের দেশ থেকে উচ্চমধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তার উত্তরণেও পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। এ সীমাবদ্ধতা কাটাতে অবকাঠামোগত খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে। দারিদ্র্য বিমোচন ও মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য পূরণে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। দরিদ্র মানুষের জন্য দেওয়া তহবিল চুরির মতো ঘটনায় বিশ্বব্যাংক জিরো টলারেন্স দেখাবে এ বিষয়টিও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রাসঙ্গিকভাবে। বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টি খুবই জরুরি। বিদেশি বিনিয়োগে আগ্রহ সৃষ্টিতে এ ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতেই হবে। বারবার এ বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে জোরেশোরে উচ্চারিত হলেও প্রয়োগগত ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের ক্ষেত্রে দ্রুতবেগে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন এ বিষয়ে কোনো হেলাফেলার সুযোগ থাকা উচিত নয়। নিজেদের স্বার্থেই ‘বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী’ প্রবচনের প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রমাণে উদ্যোগী হতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow