Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৬
বখাটেদের দৌরাত্ম্য
সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে

বখাটেদের দৌরাত্ম্য কিছুতেই থামছে না। সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজাকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার রেশ না কাটতেই গত মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। ধারালো ছুরি ও চাপাতির আঘাতে তারা স্কুলছাত্রীকে নির্মমভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলছাত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মৃত ভেবে বখাটেরা পালিয়ে যায়। আঁখি নামের ওই স্কুলছাত্রীকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাজধানীর শাহআলীতে বখাটেদের অশ্লীল আচরণের প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রী দুই যমজ বোনকে পিটিয়ে আহত করেছে বখাটেরা। জীবন ও বাবু নামের দুই বখাটে প্রতিবাদকারী যমজ দুই বোনকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত দুই বখাটের হামলায় দুই বোনের একজনের পা ভেঙে গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মিরপুর বিসিআইসি কলেজের শিক্ষার্থীরা মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনের রাস্তা অবরোধ করে। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে যায়। পুলিশ বাবু নামের এক বখাটেকে ইতিমধ্যে আটক করেছে এবং অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে। বখাটেপনার কাছে দেশের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। বখাটেপনার প্রতিবাদ করলেই তারা হামলা তো বটেই সম্ভ্রমহানির মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। বিচারহীন সংস্কৃতির কারণে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাচ্ছে না। দেশের নারী শিক্ষার জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে বখাটেদের উৎপাত। অভিভাবকরা কন্যাসন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বখাটেদের ভয়ে। দেশে বাল্যবিয়ের আধিক্যের পেছনেও বখাটে নামের শকুনদের উৎপাত অনেকাংশে দায়ী। নারী শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া এবং বাল্যবিবাহ বন্ধের স্বার্থে বখাটেপনার বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। এ ব্যাপারে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার স্বার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়দায়িত্ব বেঁধে দিতে হবে। কোনো এলাকায় বখাটেপনার ঘটনা ঘটলে সেখানকার থানা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার যাতে তা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয় এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।  নিজেদের সভ্য দুনিয়ার অংশ হিসেবে পরিচিত করতে চাইলে এ ব্যাপারে আপসহীন হতেই হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow