Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৭
কেয়ামতের দিন মানুষ কৃতকর্মের ফল পাবে
মহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান

কোরআন পাকে বলা হয়েছে— কেয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে তার কৃতকর্মের ফল দেওয়া হবে। এ জন্য তারা পুরস্কৃত হবে, নয়তো সাজাপ্রাপ্ত হবে।

এর কোনো বিকল্প নেই। আমল ভালো হলে পুরস্কৃত হবে, অনন্তকাল জান্নাতে থাকবে, আর মন্দ হলে সাজাপ্রাপ্ত হবে। আল্লাহপাক বলেন, মানুষ দুনিয়াতে যে আমল করেছে তা কেয়ামতের দিন দেখতে পাবে। মানুষ আমল করার পর তা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যেমন কোনো কথা বলার পর সেটা আর নিজের ভিতরে ফিরিয়ে আনা যায় না— নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না। তেমনিভাবে মানুষ আমল করলে সেটা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চাই তা নেক হোক কিংবা বদ হোক। কোনো কাজের পরিকল্পনা যতক্ষণ অন্তরে থাকে ততক্ষণ ফেরেশতারা জানতে পারে না। আর যখনই কাজে বাস্তবায়ন করা হয় তখনই তা মানুষের আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। আল্লাহপাক কত বড় দুয়ালু। মানুষের মনের গুনাহসমূহ সম্পর্কে ফেরেশতাদের অবগত করেন না। মানুষ তাদের জীবনে অনেক আমলের চিন্তা করে কিন্তু সব বাস্তবায়নের সময় ও সুযোগ পায় না। কিছু বাস্তবায়ন করে আর কিছুর কথা ভুলে যায়। মহান আল্লাহপাক তাদের নেক নিয়তের কারণেও সওয়াব দান করবেন, কিন্তু বাস্তবায়নহীন বদ নিয়তের কারণে তাদের কোনো প্রকার শাস্তি দেন না। বরং এর বদলেও আল্লাহপাক তাদের সওয়াব দিতে পারেন। কারণ মনে গুনাহের খেয়াল এসেছিল কিন্তু সে মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে গুনাহ থেকে বিরত থেকেছিল। এই মুজাহাদার করণে তার যে কষ্ট হয়েছে তার বিনিময়ে আল্লাহপাক তাকে সওয়াব দান করবেন। চোখ হাত পা ও নাকের দ্বারা যদি অনিচ্ছায় গুনাহ হয়ে যায় তাহলে তার মাফের লাইন থাকে। আর যদি ইচ্ছাকৃত গুনাহ হয় তাহলে তার জন্য ক্ষমার কোনো লাইন থাকে না। গুনাহগারের জন্য এ শাস্তিও কম নয় যে, হাশরের মাঠের সবাই জেনে যাবে যে, অমুক অপরাধের কারণে এই লোকের শাস্তি হচ্ছে। গুনাহ করলেই জাহান্নামে যেতে হবে এটা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আকিদা নয়। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, সব গুনাহগারই ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে না, বরং জাহান্নামে যাবে, তবে অল্প কয়েক দিন জাহান্নামে থাকার পর আল্লাহপাক তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এ ক্ষমা ঘোষণার আগে আল্লাহপাক নবীগণকে বলবেন তোমরা জাহান্নামে গিয়ে দেখ, যাদের অন্তরে অণুপরিমাণ ইমান আছে তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে নিয়ে যাও।   আল্লাহপাকের এ নির্দেশ পাওয়ার পর নবীগণ অণুপরিমাণ ইমানওয়ালাদের খুঁজে বের করে জান্নাতের দরজার সামনের হাউজে গোসল করিয়ে তাদের জান্নাতে পৌঁছে দেবেন।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow