Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫১
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে
মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে

প্রতিদিন আমরা কত মানুষের সঙ্গে অঙ্গীকার করি, ওয়াদা করি, প্রতিশ্রুতি দেই। এর মধ্যে কোনো কোনো ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি। আবার কতগুলো করি না। ছেলেমেয়ের সঙ্গে, বাবা-মার সঙ্গে, পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে, ক্রেতা-খরিদদারের সঙ্গে এবং সহপাঠী-সহকর্মীর সঙ্গে কত অঙ্গীকার আমরা করি। এরপর তা ভঙ্গ করি। যা ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক অপরাধ। প্রচলিত আইনেও তা অপরাধ। ইহকালে আইনের প্রয়োগ না থাকলেও পরকালের আদালতে ওয়াদা ভঙ্গকারীর জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। এ বিষয়ে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমের (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একবার আমার মা আমাকে ডাকলেন। তখন রসুল (সা.) আমাদের গৃহে বসা ছিলেন। মা আমাকে বললেন, এদিকে এসো। আমি তোমাকে একটি বস্তু দিব। তখন রসুল (সা.) আমার পক্ষ হতে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কি দিতে চাচ্ছ। মা বললেন, আমি তাকে একটি খেজুর দিতে চাচ্ছি। তখন রসুল (সা.) তাকে বললেন, জেনে রেখ, এরূপ নিয়ত করে যদি তুমি তা তাকে না দিতে তবে তোমার আমলনামায় মিথ্যার গুনাহ লেখা হতো (আবু দাউদ, বায়হাকি)। প্রিয় পাঠক! মা হয়ে যদি সন্তানের সঙ্গে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করা না যায় তাহলে অন্যদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা কি ভঙ্গ করা যাবে? কোনো দিন যাবে না। প্রিয় নবী (সা.) কারও সঙ্গে কোনো ওয়াদা করলে বা কাউকে কোনো কথা দিলে নিজের যত কষ্টই হোক তা রক্ষা করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু হাসমা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী করীম (সা.)-এর নবুয়ত লাভের আগে আমি তাঁর কাছ থেকে কোনো কিছু ক্রয় করেছিলাম। যার কিছু মূল্য আদায় করা আমার ওপর বাকি রয়ে গিয়েছিল। আমি তাঁকে বললাম, তা আমি এ স্থানে নিয়ে আসব। কিন্তু আমি সে ওয়াদার কথা ভুলে গেলাম। তিন দিন পরে তা আমার স্মরণ হওয়ায় আমি ওই স্থানে এসে দেখলাম, তিনি সেখানেই উপস্থিত আছেন। তখন তিনি শুধু এতটুকু বললেন, তুমি তো আমাকে খুবই কষ্টে ফেলেছিলে। আমি তিন দিন পর্যন্ত এখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি (আবু দাউদ)। রসুলে আরাবি (সা.) এর পর সাহাবায়ে কেরামও ছিলেন ওয়াদা রক্ষা করার ব্যাপারে সর্বাধিক যত্নবান। হজরত জাবের (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী করীম (সা.) ইন্তেকাল করলে এবং প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)-এর কাছে বাহরাইনের গভর্নর হজরত আলা ইবনে হাজরামীর পক্ষ হতে মালামাল এলে হজরত আবু বকর (রা.) বললেন, নবী করীম (সা.) এর ওপর কারও ঋণ অর্থাৎ কোনো কিছু পাওনা থাকলে অথবা কারও সঙ্গে তাঁর পক্ষ হতে কোনো প্রতিশ্রুতি থাকলে তারা যেন আমার কাছে আসে। আমি রসুলের পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেব। হজরত জাবের (রা.) বলেন, আমি বললাম, রসুল (সা.) আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আমাকে এতগুলো এতগুলো এতগুলো দান করবেন। অর্থাৎ তিনি তিনবার তাঁর হস্তদ্বয় প্রসারিত করেছিলেন। হজরত জাবের (রা.) বলেন, অতঃপর হজরত আবু বকর (রা.) আমাকে এক কোষ দিলেন। আমি গুনে দেখলাম, পাঁচশ দেরহাম। তখন তিনি বললেন, এ পরিমাণে আরও দুবার নাও (বুখারি ও মুসলিম)। হজরত আবু জুহাইফা (র.া) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রসুল (সা.) কে দেখেছি, তিনি ফর্সা ছিলেন। তার চুলে সামান্য শুভ্রতা দেখা দিয়েছিল। আর হাসান ইবনে আলী (রা.) ছিলেন তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি আমাদের তেরটি মোটাতাজা যুবক উট প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে কোনো এক সময় আমরা সে উটগুলো আনতে গেলে আমরা তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ শুনলাম; সুতরাং তখন আর আমাদের কিছুই দেওয়া হলো না। অতঃপর হজরত আবু বকর (রা.) খলিফা মনোনীত হয়ে খুতবা দেওয়ার সময় বললেন, রসুল (সা.)-এর কাছে যার কোনো ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে যেন আমার কাছে আসে। রাবী বলেন, তখন আমি দাঁড়িয়ে তাকে আমার কথাটি জানালাম।   অতঃপর তিনি আমাদের উট প্রদান করতে আদেশ করলেন (তিরমিজি)।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow