Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৮
বুড়িগঙ্গার ভয়াবহ দূষণ
ধারেকাছের সব নদীর জন্যও বিপজ্জনক

বুড়িগঙ্গা এখন শুধু দেশেরই নয় দুনিয়ার অন্যতম দূষণাক্রান্ত নদী। এ নদীর পানি তার স্বাভাবিক রংও হারিয়ে ফেলেছে দূষণের কারণে। বুড়িগঙ্গার দূষণ দেশের অন্যসব নদীর জন্যও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বুড়িগঙ্গার দূষণ অন্তত ছয়টি নদীর পানি দূষণে ভূমিকা রাখছে বলে যে তথ্য পরিবেশিত হয়েছে তা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, আতঙ্কের। এতে বলা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীর বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অন্য ছয় নদীতে। বর্ষাকালে এই দূষিত পানি বিভিন্ন নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। সদরঘাটের অতি পরিচিত দূষণ এখন আর বুড়িগঙ্গাতে সীমাবদ্ধ নেই। তা ছড়িয়ে পড়ছে চাঁদপুর অঞ্চলের পদ্মা এবং মেঘনার মোহনাতেও। বুড়িগঙ্গার দূষিত পানি দেশের বৃহৎ নদী পদ্মা, মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, গোমতী, ধলেশ্বরী আর শীতলক্ষ্যায়ও দূষণ ছড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়াবহ এই দূষণ রোধ করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এসব নদীর পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাবে। নদীপথে ঢাকা থেকে বরিশাল অঞ্চলে প্রতিদিন ৭ শতাধিক নিবন্ধিত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করছে। এসব যানে প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ মানুষ যাতায়াত করে। তাদের ত্যাগ করা কমপক্ষে তিন হাজার ঘনমিটার বর্জ্য প্রতিদিন বুড়িগঙ্গাসহ বিভিন্ন নদীতে সরাসরি ফেলা হচ্ছে। বুড়িগঙ্গার পানি ইতিমধ্যে এতটাই বিষাক্ত হয়েছে যে— মাছ, পোকামাকড়সহ কোনো প্রাণীই এ পানিতে বেঁচে থাকতে পারছে না। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাকে-মুখে রুমাল চেপে সদরঘাট ছাড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। শুধু মানব বর্জ্যই নয়, শিল্পকারখানার বর্জ্য, রাজধানীর ময়লা-আবর্জনা এবং নৌযানের সব ধরনের আবর্জনা নির্বিচারে বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে। দূষণের কারণে বুড়িগঙ্গা যেভাবে জলজ প্রাণীর জীবনধারণের অযোগ্য হয়ে পড়েছে তা উদ্বেগজনক। এ নদীর পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হয় নদীপাড়ের হাজার হাজার মানুষ। যে কারণে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তা হুমকি সৃষ্টি করছে।   বুড়িগঙ্গার পানি দেশের অন্য সব নদীর পানি দূষণে ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট নদীতীরের অধিবাসীরাও দূষণে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে নদীদূষণ রোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। নদীতে শিল্প বর্জ্য ও মানব বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow