Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১০
ভেষজ
বেহেশতি ফল ডুমুর
বেহেশতি ফল ডুমুর

পৃথিবীতে আল্লাহতায়ালা যেসব বেহেশতি ফল দান করেছেন তার মধ্যে ডুমুর অন্যতম। ডুমুরের গুরুত্ব বিবেচনা করে আল্লাহ ডুমুরের নামে একটি সুরার নামকরণ করেন সুরা ত্বিন। সুরা ত্বিনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন— ‘ভাবো ডুমুর ও জয়তুনের কথা এবং সিনাই পর্বতের কথা এবং এ নিরাপদ শহরের (মক্কা) কথা আর আমরা মানুষকে বানিয়েছি সর্বোত্তম শারীরিক গঠনে। ’ সুরা আত ত্বিন।

জৈব রাসায়নিক উপাদান

ডুমুরে প্রচুর শর্করা ও বিভিন্ন বিজারক চিনি যেমন ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। এতে ৫০% পর্যন্ত মনোস্যাকারাইড ও অলিগো-স্যাকারাইড থাকে। এতে কিছু ফিউরানো কোমারিন যেমন সোরালিন ও বারগাপটিন পাওয়া যায়। ডুমুরে সাইট্রিক এসিড, ম্যালিক এসিডসহ কিছু জৈব এসিড থাকে।

অর্শ রোগে : হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘ডুমুর খাও, এটা অর্শ ও বাতব্যথা দূর করে। ’

বাতব্যথা : হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, একজন ব্যক্তি রসুল (সা.)-এর কাছে এক প্লেট ডুমুর নিয়ে এলো। তখন রসুল (সা.) বললেন, ‘ডুমুর খাও, এটা সেসব ফলের মধ্যে একটি যা বেহেশত থেকে আমাদের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটা অর্শ ও বাতব্যথা দূর করে। ’ বুখারি।

ডায়াবেটিস রোগে : ১০-১২ গ্রাম শুকনো ডুমুরপাতা পানিতে ভিজেয়ে বা চা হিসেবে দিনে দু-তিন বার সেবন করলে ডায়াবেটিস রোগে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া ডুমুর ফল সিদ্ধ করে পেঁপের সঙ্গে ভর্তা করে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হয়।

শারীরিক দুর্বলতা ও অপুষ্টিজনিত রোগে : ১০ গ্রাম শুকনো পাকা ফল ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে জ্বাল দিয়ে আধা কাপ হলে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সমপরিমাণ গাভীর দুধসহ দিনে দুবার সেব্য। নিয়মিত ২০-২৫ দিন সেবন করে যেতে হবে।

শ্বেত প্রদর : ১০ গ্রাম কাঁচা ছাল থেঁতো করে তিন কাপ পানিতে জ্বাল করে এক কাপ হলে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে দিনে দুবার সেবন করতে হবে। এ নিয়মে এক-দুই মাস নিয়মিত সেবন করতে হবে।

ফোঁড়া পাকাতে : ডুমুর দুধের সঙ্গে সিদ্ধ করে প্রলেপ দিলে ফোঁড়া পাকে।

পরিপাকশক্তি বৃদ্ধির জন্য : ৫-১০ গ্রাম শুষ্ক ছাল থেঁতো করে চার কাপ পানিতে জ্বাল করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ওই নির্যাসের সঙ্গে সমপরিমাণ পুদিনা কিংবা জৈন মিশিয়ে দিনে দুবার নিয়মিত এক মাস সেবন করতে হবে।

            ডা. আলমগীর মতি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow