Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩০
ক্ষমতাসীন দলে হানাহানি
অর্বাচীনদের শক্ত হাতে সামাল দিন

সুখে থাকলে ভূতে কিলায় বলে একটি প্রবচন বাংলাভাষায় বেশ প্রচলিত। দেশের সাড়ে চার দশকের সবচেয়ে সুখী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে এ প্রবচনটি যেন শতভাগ প্রযোজ্য।

বাংলাদেশের মতো দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় বসা আর বাঘের পিঠে চড়ার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকে না। বাঘের পিঠে বসে বেয়াড়া বাঘকে সামাল দেওয়া যে কারোর পক্ষেই কঠিন। ঐতিহ্যগতভাবে অভাব-অনাটনের এই দেশে গণমানুষের চাহিদা পূরণ করা সত্যিকার অর্থেই দুরূহ। বিরোধী দলও প্রস্তুত থাকে পান থেকে চুন খসলেই সমালোচনার তীর ছোড়ার জন্য। সে দিক থেকে ২০০৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদটি নিঃসন্দেহে সুখে থাকার সময়। প্রথম মেয়াদে চারদিকের সাফল্য সত্ত্বেও জনপ্রিয়তায় চিড় ধরে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারিসহ আরও কিছু কর্মকাণ্ডের দায় সরকারের ওপর চেপে বসার কারণে। কিন্তু সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের আগুনে সন্ত্রাস প্রকারান্তরে সরকারের পায়ের তলে মাটি এনে দেয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ভুল সিদ্ধান্তে সরকার নয়, বর্জনকারীরাই ধরাশায়ী হয়। প্রধান বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় সে নির্বাচনে সংসদে আওয়ামী লীগের পক্ষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। নির্বাচনে বিরোধী দলের নামে যারা গুটি কয়েক আসন পেয়েছেন তাদের অনুগত অবস্থা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি দলের সদস্যদেরও হার মানায়। নির্বাচন বর্জন করায় প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াত জোট সংসদে যেমন ঠাঁই পায়নি, তেমন দেশবাসীর মধ্যে সরকার সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন থাকলেও আগুন সন্ত্রাসীদের আহ্বানে তারা মাঠে নামতে এ পর্যন্ত উৎসাহী হয়নি। আগুন সন্ত্রাসের মামলায় বিরোধী জোটের কর্মীরাও এখন শুধু রাজপথ নয় অনেকেই ঘর ছাড়া। এর বিপরীতে গত কয়েক বছরের চোখ ধাঁধানো উন্নয়ন জনমনে সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। সাধারণ মানুষের সমর্থন যে এখন সরকারমুখী নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচন তা স্পষ্ট করেছে। কিন্তু এ সুঅবস্থানকে ধ্বংস করতে ক্ষমতাসীন দলের কোন্দলপ্রিয় নেতা-কর্মীদের একাংশ কীভাবে উঠে লেগেছেন সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার দলীয় খুনোখুনির ঘটনা তারই প্রমাণ। মনে হচ্ছে এ সরকারকে বিব্রত করার জন্য বিরোধী নয় সরকারি দলের কোন্দলপ্রিয় নেতা-কর্মীরাই যথেষ্ট। বিপর্যয় এড়াতে না চাইলে অর্বাচীনদের শক্ত হাতেই সামাল দিতে হবে। এটি সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের চ্যালেঞ্জ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow