Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৩
বিপদাপন্ন সুন্দরবন
মিঠা পানির প্রবাহ নির্বিঘ্ন হোক

লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের বৃহত্তম বাদাবন সুন্দরবন তার বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। এ সত্যটি উঠে এসেছে কলকাতায় বাংলাদেশ ও ভারতের গবেষক-নীতিনির্ধারকদের এক কর্মশালায়।

কলকাতার ওই কর্মশালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোতে সাগরের লবণাক্ত পানির আগ্রাসন বাড়ছে। সুন্দরবনের মিঠাপানিনির্ভর গাছপালার পক্ষে অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ অনিন্দ্য সুন্দর এই বাদাবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে লবণ-পানির চিংড়ি চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন মিলনায়তনে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা যে ১৭টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন তাতে একদিকে লবণাক্ততা এবং অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবন কী ধরনের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। কর্মশালায় বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ অর্থনীতি বিভাগের প্রধান সুস্মিতা দাশ গুপ্তার গবেষণা প্রতিবেদনে ২০১২ সালের তুলনায় সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মিষ্টি পানির পরিমাণ হ্রাসের সম্ভাব্য যে চিত্র তুলে ধরা হয় তা কোটি কোটি মানুষের অস্তিত্বের জন্যও একটি উদ্বেগের বিষয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ৪১ শতাংশ এলাকায় মিষ্টি পানির প্রবাহ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অপপ্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ তা ১৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। কর্মশালায়  উপস্থাপিত আরেক প্রতিবেদনে লবণাক্ততার কারণে কীভাবে পারশে, দাঁতিনা, টেংরা, ভেটকি, পোয়া ইত্যাদি মিষ্টিপানিনির্ভর মাছের প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মিষ্টি পানির মাছ বিপন্ন হয়ে পড়ায় সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবনের মিষ্টিপানিনির্ভর সুন্দরী গাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে গেওয়া, কেওড়া ও গরানের মতো লবণাক্ততানির্ভর গাছপালা। ফলে সুন্দরবন তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলছে। লবণাক্ততার হুমকি সুন্দরবনের অস্তিত্বের জন্য যে বিপদ সৃষ্টি করছে তা রোধের সর্বোত্তম পথ হলো উজানে পানি প্রত্যাহারের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা থেকে সরে আসা। সুন্দরবন যেহেতু ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন বনভূমি, সেহেতু তা রক্ষায় দুই দেশকেই অঙ্গীকারবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow