Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৬
রাখাইনে বিপন্ন মানবতা
রোহিঙ্গা নারীরা যৌন সন্ত্রাসের শিকার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা নারীদের ওপর নির্বিচারে ধর্ষণের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। মানবাধিকার এ সংগঠনটি বলেছে, গত বছর সরকারি বাহিনীর অভিযানকালে ঢালাও ধর্ষণের পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে।

তারা এ বিষয়ে স্বতন্ত্র ধারার আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরুর জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে। এ জঘন্য অপরাধে জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনারও সুপারিশ করা হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে। গত সোমবার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ অক্টোবর থেকে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত রাখাইনের মংডু জেলার অন্তত নয়টি গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও আগ্রাসী দেহ তল্লাশিতে অংশ নেয়। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ওই সময় সংঘবদ্ধভাবে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যৌন হামলা চালিয়েছে। বন্দুকের নলের মুখেও ঘটেছে ধর্ষণের ঘটনা। গত বছরের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমার এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হলে এর দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। তারপর থেকে এই সম্প্রদায়ের ওপর শুরু হয় অত্যাচারের খড়গ। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর গণহত্যা এবং ধর্ষণসহ অন্যান্য নিপীড়নের অভিযোগ করলেও মিয়ানমার সরকার প্রথম থেকেই তা অস্বীকার করে আসছে। নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা চালানোর ক্ষেত্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ও বিকৃত ইতিহাস বিশ্ববাসীর অজানা নয়। রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো লোমহর্ষক নির্যাতন, ইতিহাসে বর্বরতার নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাংলাদেশের জন্যও সমূহ সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কারণে। বাংলাদেশে আগে থেকে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। নতুন শরণার্থীর আগমন বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ বোঝা সৃষ্টি করেছে।   মিয়ানমার নিজের স্বার্থেই রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন বন্ধ ও তাদের মানবাধিকার রক্ষায় উদ্যোগ নেবে এমনটিই কাম্য।

up-arrow