Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৬
আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সোনালি উত্থান

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত যে দেশটিকে এক সময় অবজ্ঞা করে বলা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি সেই বাংলাদেশ মাত্র এক যুগ পর ২০৩০ সালে বিশ্বের ২৮তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৩তম অর্থনীতির দেশ।

ওই সময়ে ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন মালয়েশিয়াকেও ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশ অন্তত দুইশ বছর ধরে বিশ্বের গরিব দেশগুলোর কাতারে অবস্থান করছে। আমাদের সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে মুরব্বিজনদের এ আশীর্বাদ সত্ত্বেও এ ভূখণ্ডে বার বার নেমে এসেছে দুর্ভিক্ষ ও মন্বন্তর। ব্রিটিশ আমলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে দুর্ভিক্ষে। স্বাধীনতার পরও এই বিড়ম্বনা এড়ানো যায়নি। আশার কথা সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে সেই বাংলাদেশই এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারসের ‘সুদূরপ্রসারী : ২০৫০ সাল নাগাদ কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে’ শীর্ষক গবেষণায় বাংলাদেশ সম্পর্কে উচ্চ আশাবাদের তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের জিডিপির আকার হবে ১ হাজার ৩২৪ বিলিয়ন ডলার। ২০৫০ সালে তা ৩ হাজার ৬৪ বিলিয়নে উন্নীত হবে। গবেষণায় জিডিপির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৩২টি দেশের অর্থনীতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের গড় প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে চীনের অবস্থান বহাল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে সরিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে আসবে ভারত। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি মেক্সিকো ও ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের চেয়ে এগিয়ে যাবে। পাকিস্তান ও মিসর পেছনে ফেলবে ইতালি ও কানাডাকে। ২০৫০ সাল নাগাদ এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে ইউরোপ। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে অধিক বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির তাগিদ দেওয়া হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।   নিজেদের সফল জাতি হিসেবে দেখতে চাইলে এ ক্ষেত্রে এখন থেকেই যত্নবান হতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow