Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৮
পাট গবেষণায় সাফল্য
সোনালি আঁশের সুদিন ফিরে আসুক

সোনালি আঁশ পাট থেকে সূক্ষ্ম সুতা তৈরিতে এগিয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। এ আবিষ্কার সূক্ষ্ম সুতা তৈরিতে পাটের বিকল্প ব্যবহারের পথ উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিন বছর আগে পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করে পাটকে সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবে ব্যবহারের সোনালি সোপানে পা রাখেন জিনবিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা বিজ্ঞানীরা পাটের আঁশকে সূক্ষ্ম সুতায় পরিণত করার পথে আরেক ধাপ এগোনোর কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে তারা দেশি ও তোষা পাটের জিনগত গঠনের বিষয়টি আবিষ্কার করেছেন। তাদের এ উদ্ভাবনের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল নেচার প্লান্টে। পাট একসময় ছিল দেশের সবচেয়ে অর্থকরী ফসল। দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশজুড়ে ছিল পাট। দেশের শিল্পশ্রমিকদের সিংহভাগ নিয়োজিত ছিল পাটশিল্পে। কালের বিবর্তনে কৃত্রিম তন্তুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাট তার অবস্থান হারিয়েছে। তিন বছর আগে পাটের জীবনরহস্য আবিষ্কারের মাধ্যমে এর বহুমুখী ব্যবহারের পথ উন্মোচিত হয়। পাট দিয়ে ওষুধসহ নানা পণ্য উদ্ভাবনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে এ সাফল্য। পাটের জিনগত উদ্ভাবন পাটকে সূক্ষ্ম সুতায় পরিণত করার ক্ষেত্রে পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের তিনটি গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এবং গবেষণাটি নেচার প্লান্ট জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার ঘোষণা দেন। স্মর্তব্য, পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের এক বছর পর ২০১৪ সালে মারা যান যশস্বী বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম। তার মৃত্যুতে পাট গবেষণার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল শিষ্যরা সে আশঙ্কার অবসান ঘটিয়েছেন গুরুর পথ ধরে পাট নিয়ে সফল গবেষণার মাধ্যমে। আশা করা হচ্ছে, তাদের এ দেশপ্রেমসুলভ গবেষণা অব্যাহত থাকবে এবং পাট আবার হয়ে উঠবে অর্থকরী ফসল। দেশের অর্থনীতিতে পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে তা অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।

up-arrow