Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৬
আর নয় দখল দূষণ
চার নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

রাজধানীর নদ-নদী অস্তিত্ব হারাতে চলেছে কর্তৃপক্ষীয় উদাসীনতার কারণে। নদ-নদী, খাল-বিল, ঝিল-জলাশয় রক্ষার দায়িত্ব যাদের তাদের নিষ্পৃহতায় ভরাট হয়ে রাজধানীর অধিকাংশ জলাশয়।

দূষণ দখলে রাজধানীর চার নদ-নদী বিপন্ন প্রায়। বুড়িগঙ্গার পানি তো স্বাভাবিক চেহারা হারিয়ে আল-কাতরার চেহারা ধারণ করতে চলেছে। পানির দুর্গন্ধে নদীপাড়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়। দখল দূষণে নদীর এক উল্লেখযোগ্য অংশই দখলবাজদের থাবার নিচে। রাজধানীর নদ-নদীগুলো দেড় কোটিরও বেশি নাগরিকের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘিঞ্জি এ জনপদের মধ্যে নদীগুলোই মুক্ত হাওয়ার বড় আধার যা রাজধানীর ফুসফুসের মতো ভূমিকা পালন করছে বললেও অত্যুক্তি হবে না। দেরিতে হলেও রাজধানীর নদ-নদী, খাল-বিল, ঝিল-জলাশয় রক্ষায় সচেতন হয়ে উঠেছে দুই সিটি করপোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়। নৌবাহিনীকেও এ ব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নদ-নদী জলাশয় রক্ষায় নাগরিক সচেতনতা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা থাকায় সবপক্ষের সক্রিয়তাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানীর চার নদীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে দখল ও দূষণ। এ দুই হুমকি বন্ধে সিটি করপোরেশন যেমন এগিয়ে এসেছে সুদৃঢ় ভূমিকা নিয়ে তেমন সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে অভিযান পরিচালনা করেছেন। পরিবেশ অধিদফতর নদী দূষণ রোধে অভিযান অব্যাহত রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুড়িগঙ্গা থেকে বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে নদীতে বর্জ্য ফেলতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। নদীর তীর দখলমুক্ত করার জন্যও নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা। দখল দূষণ রোধে নদীর তীরে হাঁটাপথ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা ফাইল চাপা পড়ে আছে রহস্যজনকভাবে। নদী রক্ষায় এ পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে। নদীতীরে ইট, পাথর ও বালু ব্যবসা বন্ধেও নিতে হবে উদ্যোগ। রাজধানীর চার নদ-নদী রক্ষায় জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়টি সবিশেষ গুরুত্বের দাবিদার।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow