Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০১

পদ্মা প্রকল্পে নির্দোষ বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ সত্য নয়

পদ্মা প্রকল্পে নির্দোষ বাংলাদেশ

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঘুষ দুর্নীতির ষড়যন্ত্র সম্পর্কিত অভিযোগকে শেষ পর্যন্ত গালগল্প বলে নাকচ করে রায় দিয়েছে কানাডার একটি আদালত। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হয়নি, প্রকল্পের অর্থায়ন থেকেও সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহার করায় প্রকল্প থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থাও সরে আসে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয় বিশ্বব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে। যে প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক একটি টাকাও ছাড় দেয়নি, সে প্রকল্পে কীভাবে দুর্নীতি হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এ প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকে বিশ্বব্যাংক। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর কানাডার আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে বিশ্বব্যাংকের কথিত অভিযোগটি ছিল অন্তঃসারশূন্য বা গালগল্পের নামান্তর। এ রায় বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের মতো দাতা সংস্থার জন্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে মামলার রায়। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার সময় যুক্তি দেখিয়েছিল তারা বাংলাদেশের জনগণের অর্থের অপচয় চান না। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। দেশের অগ্রগতির সহায়ক প্রকল্পটি সময়মতো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সার্বিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষয়ক্ষতির দায় বিশ্বব্যাংক এড়াতে পারে না এবং এ বিষয়ে তাদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হওয়ার সৎ সাহস থাকা  উচিত। কানাডার আদালতের রায় প্রমাণ করেছে দাতা সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তের পিছনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ঋণ গ্রহীতা দেশের উন্নয়নে সহায়তা করার বদলে নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণেই তারা বেশি উন্মুখ। এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে সরকার যে কোনো প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়নের ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখার নীতি অবলম্বন করবে এমনটিই কাঙ্ক্ষিত।


আপনার মন্তব্য