Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৮
পৃথিবীতে কেউই চিরন্তন নয়
আল্লামা মাহমূদুল হাসান

পৃথিবীতে কেউই চিরন্তন নয়। আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে কোনো বস্তুই ধোপে টিকবে না পৃথিবীতে।

সময় হলে আপন নীড়ে প্রস্থান করতেই হবে। তাই যতটুকু সময় পৃথিবীতে ফুরসত মিলে, ততটুকু সময় মহান আল্লাহর দেওয়া জীবন বিধান মেনে এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের পূর্ণ আনুগত্য করে বিদায় নিতে পারলেই সেটা হবে আমাদের সুনিপুণ সমাপ্তি। নতুবা জাহান্নামের আগুন সহ্য করার সাধ্য কার?

মুসলমান ইমানি শক্তি ও দৃঢ়তা হারিয়ে ফেলতে বসেছে। অন্তরে রসুলের প্রতি মহব্বত ও তার আনুগত্য খুবই কম। তার বহুমুখী ইহসান-অবদানের প্রতিদান দেওয়া তো দূরের কথা; বরং এর অনুভূতিটুকু পাওয়া কঠিন। এ অবস্থা ও চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন জরুরি। আর এই পরিবর্তন পরকালের আজাবের ভয়ভীতি এবং জান্নাতের প্রতি আকর্ষণ জন্মালেই সম্ভব হবে। কারণ দুনিয়ার জীবন তো ক্ষণস্থায়ী। অনেকেই এই সহায়-সম্পদ ভোগ করার সুযোগটুকু পায় না বরং এই সহায়-সম্পদই হয়ে যায় তার ধ্বংসের কারণ। মাগরিবের পরেই যেমন নেমে আসে রাতের আঁধার। শেষ হয়ে আসে দিনের সব আয়োজন। সূর্যও তার অন্তিমতা জানান দেয় বিশ্ববাসীকে। তেমনি মানবজীবনের সূর্যও একদিন ডুবে যাবে; জানান দিবে জীবনের অন্তিমতা। পৃথিবীতে এ আসা-যাওয়ার যে চিরন্তন অমোঘ নিয়ম আছে, এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন— ‘প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। ’ (সূরা আলে ইমরান-১৮৫)।

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন— ‘যখন মৃত্যু আসবে, পৃথিবীর কোনো শক্তি তাকে এক মুহূর্ত আগ-পিছ করতে পারবে না। (সূরা আরাফ: ৩৪)।

মৃত্যু আল্লাহপাকের অবিকল্প বিধান। একটা দূর পথযাত্রা, যে দূরত্বের শেষ নেই। এমনই এক পার্থিব বিরহ যে বিরহের পর আর মিলন নেই কোনো কিছু এমনভাবে হারিয়ে ফেলার মতো, যা আর ফিরে পাওয়া যায় না। এমনই এক সম্বিতহীনতা, যা চিরন্তন। তাই এ অনন্ত একাকী দূর পথযাত্রায় কিছু নিজস্ব পাথেয় তৈরি করে নেওয়া বুদ্ধিমানের পরিচয়। যেখানে শুধু নিজের প্রস্তুতকৃত পাথেয় ব্যতীত অন্যের আশায় থাকা বোকামি ছাড়া আর কী! এ মৃত্যু দূর পথযাত্রায় কোনো সম্পদ কাজে দেবে না। যা কাজে দেবে সেটা আমলনামা। যার ওপর নির্ভর করবে অনন্ত জীবন সুখের কিংবা দুঃখের।

সে অনন্ত জীবন সুখের করতে হলে প্রয়োজন ইমানের চোখ আর সুন্নতের চশমা। ইমান একটি অদৃশ্য জগৎ সম্পর্কে মৌলিক বিশ্বাসের নাম। আর এ বিশ্বাস সব সময় নিজেকে বদ্ধমূল রাখতে হলে প্রত্যেক কাজের আগেই ভেবে নেওয়া দরকার যে, আমার এ জগৎ স্থায়ী নয়; স্থায়ী জগৎ হলো অদৃশ্য। যেখান থেকে এসেছি আবার সেখানেই ফিরে যেতে হবে। এ ভাবনা বদ্ধমূল রেখেই ভালো কাজ হলে সুন্নত মোতাবেক পালন করা আর গোনাহ হলে আন্তরিকতার সঙ্গে বর্জন করা। সর্বোপরি এ ভাবনা ইমানের চোখ কিংবা অন্তর্চক্ষু খোলা থাকলেই সম্ভব। কারণ সাধারণ চোখে অনেক কিছুই দৃষ্টিগোচর হয় না। দৃশ্যমান বস্তু দেখতে হলেও মানুষের অন্তর্চক্ষু দরকার।

অন্তর্চক্ষু ছাড়া বাস্তব চোখ দিয়ে তা দেখা সম্ভব হয় না। এই অন্তর্চক্ষু খুলতে হলে আল্লাহর কদমে বেশি বেশি সিজদা করা, সুন্নতে রসুলের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে সব ধরনের গুনাহ বর্জন করা একান্ত কর্তব্য।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর
up-arrow