Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১০
অজুর দ্বারা পবিত্র হওয়ার আমল
মাওলানা মুহম্মাদ আশরাফ আলী

অজু ছাড়া নামাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। নামাজ আদায়ের আগে অজুর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।

কারও জন্য গোসল করা ফরজ হলে অজু ও গোসল দুটিই করতে হবে। হজরত আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি আরজ করলাম ইয়া রসুলুল্লাহ! অজুর মধ্যে ফায়দা কী? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তুমি অজু করবে ও দুই হাতের কব্জি পরিষ্কার করে ধৈত করবে, তখন গুনাহসমূহ আঙ্গুলের অগ্রভাগ ও নখ দিয়ে বের হয়ে যাবে। এরপর যখন তুমি কুলি করবে, নাকে পানি দিয়ে দুই নাকের ছিদ্র পরিষ্কার করবে, মুখ ও হস্তদ্বয় কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, মাথা মাসেহ করবে ও উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবে, তখন তুমি যেন তোমার গুনাহসমূহকে ধূয়ে পরিষ্কার করে দিলে। এরপর যখন তুমি তোমার চেহারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জমিনে রাখবে (নামাজ আদায় করবে) তখন তুমি এমনভাবে গুনাহ থেকে নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তোমার মা তোমাকে জন্ম দিয়েছিল। (নাসাঈ : মুসলিম)

অন্য বর্ণনায় আছে, হজরত উকবা ইবনে আমের জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : যে কোনো মুসলমান পরিপূর্ণভাবে অজু করে, অতঃপর (দুই রাকাত) নামাজ এমন ধ্যানের সঙ্গে আদায় করে যে, যা সে পড়ছে তা সে জানে, তাহলে (নামাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে) সদ্য ভূমিষ্ঠ বাচ্চার মতো তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। অর্থাৎ তার আর কোনো গুনাহই অবশিষ্ট থাকে না। (মুস্তাদরাকে হাকেম-যাহাবী)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাসাল্লাম বলেন, আল্লাহতায়ালা (রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নের মাধ্যমে) ইরশাদ করেছেন, হে মুহাম্মদ! আমি আরজ করলাম, হে আমার রব! আমি হাজির আছি। ইরশাদ হলো, নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ কী বিষয় নিয়ে পরস্পর বিতর্ক করছে? আমি আজ করলাম, সেসব আমল সম্পর্কে যা গুনাহের কাফফারা হয়। (ইরশাদ হলো, সেই আমলসমূহ কি? আমি আরজ করলাম), জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য পায়ে হেঁটে যাওয়া, কষ্টকর অবস্থায় (যেমন শীত মৌসুমে বা মন না চাইলেও) উত্তমভাবে অজু করা এবং এক নামাজের পর আর এক নামাজের জন্য অপেক্ষা করা। যে ব্যক্তি এগুলোর ওপর নিয়মিত আমল করবে, সে জীবনযাপন করবে কল্যাণের সঙ্গে এবং মৃত্যুবরণ করবে কল্যাণের সঙ্গে।   আর সে তার গুনাহ থেকে পরিত্রাণ পাবে ওই দিনের মতো যে দিন মা তাকে ভূমিষ্ঠ করেছে। (মাজমায়ুয যাওয়ায়েদ : তিরমিজি)।

            লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow