Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৯
বায়তুল মোকাররমের খুতবা
মাতৃভাষায় ইসলাম প্রচারে গুরুত্ব
মুফতি এহসানুল হক জিলানী
পেশ ইমাম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

সকল প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), তার পরিবার-পরিজন ও সাহাবিদের প্রতি।

ইসলামই মুক্তি ও সাফল্যের গ্যারান্টি : এই উম্মত তথা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য দয়াময় আল্লাহর এক অনন্য নিয়ামত হলো আল ইসলাম। এটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ও জীবনবিধান। অন্যান্য নবী-রসুলের শরিয়ত ও ধর্ম ছিল খণ্ডিত, অপূর্ণ। ইসলাম হলো পরিপূর্ণ জীবনবিধান। বিদায় হজের আরাফাত দিবসে মহান আল্লাহ নাজিল করলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন মনোনীত করলাম। ’ (সূরা মায়িদা, আয়াত ৩)। আমাদের জন্য নাজিল করা আল্লাহর এই দীন, এই কিতাব হলো ইহকালীন সাফল্য ও পরকালীন কল্যাণের গ্যারান্টি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কাছে এসেছে আল্লাহর কাছ থেকে এক জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায় এর দ্বারা তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবিং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং ওদের সরল পথে পরিচালিত করেন। ’ (সূরা মায়িদা, আয়াত ১৫, ১৬)।

ইসলাম কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে : আল কোরআন সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ। ইসলাম সর্বশেষ ঐশী বিধান, কারণ হজরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সর্বশেষ নবী ও রসুল। আল্লাহ বলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন এবং তিনি আল্লাহর রসুল ও শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। ’ (সূরা আহজাব, আয়াত ৪০)।

রসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমিই শেষ নবী। ’ (বুখারি, মুসলিম)।

কিয়ামত পর্যন্ত যেহেতু আর কোনো নবী আসবেন না, কোনো আসমানি কিতাব নাজিল হবে না সেহেতু এই ইসলাম এবং কিতাবই কিয়ামত পর্যন্ত প্রচার ও বাস্তবায়ন হতে থাকবে।

মাতৃভাষায় ধর্ম প্রচার : মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাঁর একাত্মবাদ ও ইবাদতের দিকে আহ্বান করার জন্য যুগে যুগে গোত্র, জনপদ ও জনগোষ্ঠীতে নবী-রসুল পাঠিয়েছেন। যে জনপদে ও যে গোষ্ঠীতে যে ভাষা প্রচলিত ছিল আল্লাহ ওই জনপদে ওই ভাষাভাষী নবী-রসুল পাঠিয়েছেন, যাতে প্রেরিত নবী-রসুলের ভাষা ও বক্তব্য সহজে বুঝতে এবং সে মোতাবেক কাজ করতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রসুলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য। ’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত ৪)।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মেছিলেন মক্কায়। তিনি হিজরত করে গিয়েছিলেন মদিনায়। মক্কা, মদিনা তথা আরব দেশের ভাষা আরবি। তাই আল্লাহ তাঁর রসুল মুহাম্মদ (সা.)-কে আরবি ভাষাভাষী করে পাঠালেন এবং তার আরবি ভাষায় কোরআন নাজিল করলেন। আল্লাহ বলেন, ‘আলিফ লাম মীম এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। আমি এটি নাজিল করেছি আরবি ভাষায় কোরআন যাতে তোমরা বুঝতে পারো। ’ (সূরা ইউসুফ, আয়াত ১, ২)। অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘জিবরাইল (আ.) এটি নিয়ে অবতরণ করেছে আপনার হৃদয়ে যাতে আপনি সতর্ককারী হতে পারেন। অবতীর্ণ করা হয়েছে, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়। ’ (সূরা শুয়ারা, আয়াত ১৯৩, ১৯৪)।

বাংলা ভাষায় ইসলাম প্রচার : ইসলাম স্থানকালনির্বিশেষে সব মানুষের জীবনবিধান। কিয়ামত পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। ইসলামের মূল কিতাব আরবি ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরবি ভাষাভাষী। তার পরও বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের কাছে প্রিয়নবী (সা.) এবং আল কোরআন প্রাণাধিক প্রিয়। প্রিয় নবী (সা.) তাদের আত্মার আত্মীয়, নয়নের মণি ও মুক্তির পথপ্রদর্শক। বাঙালি মুসলমানদের অন্তরের অন্তস্তলে রয়েছেন তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow