Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০০
ইতিহাস
মামলুক বংশ

মিসরের ক্রীতদাস অথবা মামলুক বংশ দুভাগে বিভক্ত ছিল, যথা বাহরী এবং বুরজী। যেসব ক্রীতদাস আয়য়ুবী সুলতান আস-সারিহ ক্রয় করেন তাদের বাহরী মামলুক বলে।

নীলনদের রাওদা দ্বীপাঞ্চলে এসব ক্রীতদাসের বসতি ছিল। অর্থাৎ মধ্যবর্তী দ্বীপে সেনানিবাসে বাস করত বলে তাদের বাহরী মামলুক বলা হতো। বাহরী মামলুকদের মধ্যে তুির্ক ও মোঙ্গলদের প্রাধান্য ছিল বেশি। আব্বাসীয় লিখাফতে মুসতাসিম তুর্কি দেহরক্ষী ক্রীতদাস নিযুক্ত করে এবং তাদের বসতি ছিল নব-প্রতিষ্ঠিত সামাররাতে। অনুরূপভাবে আয়য়ুবিরা ক্রীতদাসদের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত করলেও পরবর্তী পর্যায়ে তারা অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন। এই বাহরী বংশের মামলুকরা মিসরে একটি সার্বভৌম রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তারা ১২৫০ হতে ১৩৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এ বংশের ২৪ জন সুলতান রাজত্ব করেন। প্রথম সুলতান ছিলেন আইবেক। ‘বাহরী’ মামলুকের পর বুরজী মামলুকদের আবির্ভাব ঘটে পরবর্তী পর্যায়ে। বাহরী মামলুক সুলতান কালাউনের রাজত্বকালে একশ্রেণির ক্রীতদাস দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত হন। তারা ছিলেন কারকেসিয়ান বংশোদ্ভূত। এসব ক্রীতদাসের অধিকাংশ নগর-দুর্গে অথবা ‘বুরজে’ বসবাস করত; এ কারণে তাদের বুরজী মামলুক বলা হতো। এ বংশের ২৩ জন সুলতান ১৩৮২ হতে ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মিসরে রাজত্ব করেন। বুরজীদের মধ্যে বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার ও স্বজনপ্রীতির প্রচলন ছিল না।   তারা স্বীয় কর্মদক্ষতা ও বিচক্ষণতার ফলে ক্ষমতা লাভ করেন।

জাফর খান

up-arrow