Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১০
মুমিনরা শান্তিপ্রিয় আচরণের অধিকারী
মুফতি মো. মামুন হোসাইন বাশারী
মুমিনরা শান্তিপ্রিয় আচরণের অধিকারী

আল্লাহ বলেন, রহমানের প্রকৃত বান্দা তারাই যারা পৃথিবীর বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং মূর্খরা তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলে দেয়, তোমাদের প্রতি সালাম। (সূরা ফোরকান : ৬১)।

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, আর যখন তারা কোনো অনর্থক কথা শোনে, তারা উপেক্ষা করে এবং বলে, আরে ভাই! আমাদের কাজের ফল আমরা পাব, তোমাদের কাজের ফল তোমরা পাবে। সালাম তোমাদের প্রতি, আমরা মূর্খদের সঙ্গে কথা বলি না। (সূরা কাসাস : ৫৫)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন, মুমিন সবসময় উন্নত চরিত্র এবং চিন্তাচেতনার অধিকারী হয়ে থাকে। চলার পথে অজ্ঞদের কটূক্তি ও প্ররোচনায় তারা প্রভাবিত হয় না। মূর্খদের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য তারা উগ্র আচরণের বদলে প্রশান্ত আচরণ করে। তারা ‘সালাম’ বলে কৌশলে নিজেদের অহেতুক কাজ থেকে বাঁচিয়ে চলে। তার মানে এই নয় যে, তারা দুর্বল ও ভীরু। বরং অনর্থক কাজে সময় ও শ্রম অপচয় করা তারা পছন্দ করে না। তাই তারা মূর্খদের এড়িয়ে চলে। (ফি জিলালি কোরআন : খ. ১৪, পৃ. ২৩৪)।

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, অযৌক্তিক ও কটু কথা শুনে চুপ থাকা, প্রতিবাদ না করা কিংবা শান্তির আহ্বান জানানো চরম ধৈর্যের কাজ। এমনটি করার ফলে সহজেই নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। (কিমিয়ায়ে সাআদাত : খ. ৩, পৃ. ৪০)। উম্মুল মোমিনিন হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, তর্কপ্রিয় ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপ্রিয়। (বুখারি : ২৩২৫)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ইসলামের সৌন্দর্য হলো অনর্থক, উপকারী নয়- এমন বিষয় ত্যাগ করা। (তিরমিজি : ২৩১৭, ইবনে মাজাহ, ৩৯৭৬। ) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ঝগড়া-তর্ক এড়িয়ে চলতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘সফল মুমিন তারা, যারা অনর্থক কাজ ও বেহুদা-অর্থহীন কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে। ’ (সূরা মুমিন : ৩)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, তারা অর্থাৎ মোমিনরা যখন অর্থহীন কাজের সম্মুখীন হয়, তখন আত্মমর্যাদা রক্ষা করে চলে। ’ (সূরা ফোরকান : ৭২)। হজরত নু’মান (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে গালমন্দ করছিল। তাদের একজন অপরজনকে মন্দের পরিবর্তে ভালো বলছিল। রসুল (সা.) এ দৃশ্য দেখে বললেন, সে যখন তোমাকে মন্দ বলছিল, ফেরেশতারা তখন তাকে মন্দ বলছিল। আর তুমি যখন তাকে শান্তিপূর্ণভাবে জবাব দিচ্ছিলে তখন ফেরেশতারা তোমার জন্য শান্তির দোয়া করেছে। (মুসনাদে আহমাদ : ২৩২৩৩)।

লেখক : খতিব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, বরুড়া, কুমিল্লা

up-arrow