Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৩
মানুষতত্ত্ব
অসামান্য যারা

বড় হওয়ার জন্য বাপ-দাদার আভিজাত্যের যে প্রয়োজন হয় না তা প্রমাণ করেছেন চার্লি চ্যাপলিন। সর্বকালের সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ভাবা হয় তাকে।

অতি সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন চার্লি। তার জন্মে আভিজাত্যের ছাপ ছিল না। বাবা-মা দুজনই ছিলেন ভ্রাম্যমাণ যাত্রাদলের নর্তক-নর্তকী। অতি সাধারণ ও গরিব পরিবারের সন্তান হলেও চার্লি চ্যাপলিন তার নিজ যোগ্যতায় বিশ্বজয়ের কৃতিত্ব দেখান। যাত্রাদলের নর্তক-নর্তকীর সন্তান চার্লি চ্যাপলিন ‘নাইটস’ উপাধি পান তার অসামান্য কৃতিত্বের পুরস্কার হিসেবে। দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষের হূদয়-রাজ্যে ঠাঁই করে নেওয়ার যে কৃতিত্ব তিনি দেখিয়েছেন তা এক কথায় বিরল।

মহান আমেরিকান হিসেবে যাদের ভাবা হয় তাদেরই একজন বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন। খুব গরিব ঘরের সন্তান ছিলেন তিনি। ফ্রাঙ্কলিনের বয়স যখন আট তখন তাকে ভর্তি করা হয় স্কুলে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার জন্য বেশিদিন পড়াশোনা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফ্রাঙ্কলিনরা ছিলেন ১৫ ভাই-বোন। এ বিশাল সংসারের খরচ চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করানো তার বাবার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। স্কুল ত্যাগের পর বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন জীবন সংগ্রামে বেরিয়ে পড়লেন। প্রথমে গেলেন নিউইয়র্কে। সেখান থেকে ফিলাডেলফিয়া শহরে। ফ্রাঙ্কলিনের পকেটে তখন সামান্য কিছু টাকা। তিনি কাজ নিলেন এক ছাপাখানায়। কাজের অবসরে বই পড়তেন নিবিষ্টভাবে। কোনো কোনো দিন সারারাত কেটে যেত এভাবে। জ্ঞান স্পৃহায় তিনি ছিলেন অক্লান্ত। দুই বছর ফিলাডেলফিয়ায় কাজ করে ভাগ্যান্বেষণে লন্ডনে যান ফ্রাঙ্কলিন। সেখানে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। দুই বছর লন্ডনে থেকে ফিরে আসেন ফিলাডেলফিয়ায়। এবার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো। এক ধনীর সহায়তায় তিনি নিজেই খুলে বসেন ছাপাখানা। আশাতীত সাফল্যের মুখও দেখলেন। কালক্রমে তার আর্থিক অবস্থার উন্নতিও হলো।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের সুযোগ না পেলেও বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ছিলেন জীবন পাঠশালার ছাত্র। জীবন সংগ্রামের পাশাপাশি নিজেকে শিক্ষিত করে তুলতে সাধ্যের সবটুকু চেষ্টাই তিনি করেছেন। প্রতিদিনই পড়াশোনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন নিজের জ্ঞানভাণ্ডার।

ফিলাডেলফিয়া শহর থেকে ওই সময় প্রকাশিত হতো ‘পেনসিলভেনিয়া গেজেট’ নামের একটি পত্রিকা। বেঞ্জামিন সে পত্রিকাটির মালিকানা স্বত্ব কিনে নিলেন। শুরু হলো নতুন জীবন। পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি চলে তার লেখালেখি। অল্প দিনেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। শুরু হলো তার উত্থান।

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন সব ধরনের বই পড়লেও বিজ্ঞানের প্রতি ছিল তার বিশেষ আগ্রহ। এই আগ্রহ থেকে তিনি বিজ্ঞান গবেষণায় জড়িয়ে পড়েন। বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক হিসেবে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow