Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৩
ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা ফরজ
মাওলানা মো. উবায়দুল হক সালেহী
ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা ফরজ

ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব এত বেশি যে, প্রিয় নবী (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ প্রথম ওহি হলো, ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক’। অর্থাৎ ‘পড়ুন আপনার প্রতিপালকের নামে।

’ মহান প্রতিপালকের নামে পড়ার তাগিদ দেওয়ার মাধ্যমে মহাগ্রন্থ আল কোরআন নাজিলের সূচনা। এ থেকেই জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। আরবের অসভ্য মানুষকে সভ্য করার জন্য আল্লাহ পাক প্রথমেই নামাজের নির্দেশ দেননি। দেননি রোজার নির্দেশও। প্রথম যে নির্দেশ দিয়েছেন তা হলো ‘ইকরা’- ‘পড়’। জ্ঞান সাধনা কর। জ্ঞান সাধনার মাধ্যমে আগে সভ্য মানুষ হও। তারপর নামাজ-রোজা, হজ-জাকাতের মাধ্যমে মুমিন হবে। আর এসব আমলের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে মুসলমান হয়ে তারপর কবরে যাবে।

এ বিশ্ব জগতে মহান আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে। এসব নিদর্শন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। বুঝতে পারেন কেবল জ্ঞানী বান্দারা। আল্লাহ বলেন, ‘এটি এক কল্যাণময় গ্রন্থ, যা আমি তোমার ওপর অবতীর্ণ করেছি। যাতে তারা এর আয়াতগুলো অনুধাবন করে এবং জ্ঞানীরা এর থেকে উপদেশ গ্রহণ করে। ’ (সূরা সোয়াদ : ২৯)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘এসব দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য পেশ করি। আর জ্ঞানী লোকেরা ছাড়া কেউ তা বুঝে না’। (সূরা আনকাবুত : ৪৩)। জ্ঞানীরা মহান আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন আর নিজেদের কাছে অজানা বিষয়সমূহের দরজা খুলতে থাকে। এসব অনুধাবন করে জ্ঞানী মন বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতায় মহান মাবুদের প্রতি সেজদাবনত হয়ে পড়ে। আর পাপের পরিণতি স্মরণ করে ভয়ে কেঁপে ওঠে তার দেহ ও মন। যে কথা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই আল্লাহকে বেশি ভয় করে’। (সূরা আল ফাতির : ২৮)। তাই তো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘নবী হে আপনি বলুন! যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?’ (সূরা জুমার : ৯)।

ইসলামকে জানতে হলে, প্রভুকে চিনতে হলে, জীবনের সব পর্যায়ে দীনকে মানতে হলে জানার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য জ্ঞান বা ইলমের প্রতি রসুল (সা.)ও খুব বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। ’ (তিরমিজি)। জ্ঞানার্জনের প্রতি উৎসাহ দিয়ে রসুল (সা.) অনেক বাণী দিয়েছেন। যেমন প্রিয় নবী (সা.) ইলম অন্বেষণকারীর মর্যাদা সম্পর্কে বলেন, ‘জ্ঞান সাধকের জন্য আসমান ও জমিনের সবকিছুই ক্ষমা প্রার্থনা করে। (আবু দাউদ ও তিরমিজি)। জ্ঞানীর কলমের কালিকে শহীদের রক্তের চেয়ে দামি মনে করা হয়।

কারণ শহীদের রক্তের মতোই কলমের কালি মানব সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে। তাই আসুন! আমরা সবাই জ্ঞান সাধনা করে মহান আল্লাহর মারেফাত ও রসুল (সা.)-এর মুহব্বত লাভে ধন্য হই।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নন্দীপাড়া মাদ্রাসায়ে সোনার মদিনা বাসাবো, খিলগাঁও, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow