Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৪০
শাহজালালে যাত্রী হয়রানি
এ অকাম্য অবস্থার অবসান হোক

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভাবমূর্তির সংকট থেকে কিছুতেই বের হতে পারছে না। দুনিয়ার প্রায় সব বিমানবন্দর যাত্রীদের আস্থা অর্জনের পথে চললেও শাহাজালাল পেছনে হাঁটাকে কর্তব্য বলে বেছে নিয়েছে।

যাত্রী সেবার বদলে হয়রানির যে বদনাম গড়ে উঠেছে সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টাতেও তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের লাগেজ প্রদানে সময়ক্ষেপণ শাহজালালের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ বা বিজনেস ক্লাসের যাত্রী কেউই এ অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। চরম অসৌজন্যমূলক আচরণের পাশাপাশি যাত্রীদের আতঙ্কিত করে তোলাও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যাস বলে বিবেচিত। ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের টাকা-পয়সা, মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা অহরহই ঘটছে। হয়রানির অভিযোগ নাকচের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা যেন এক পায়ে খাড়া। ফলে অভিযোগ করলে প্রতিকারের বদলে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভাগ্যে জোটে নির্দয় আচরণ। বিমানবন্দরে যাত্রীদের দৈহিক নির্যাতন চালানোর বেশ কয়েকটি ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে। সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চরম দায়িত্বহীনতায় দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। শাহজালালে নিগৃহীত ও নাজেহালের শিকার হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে কর্মরত বাংলাদেশিরা। তারা দেশে ফেরা ও কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইমিগ্রেশন বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা প্রবাসী কর্মজীবীদের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করেন, তা সভ্য সমাজে কল্পনা করাও কঠিন। বিমানবন্দরে অন্তত ১০টি ধাপে যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে হয়রানির আশ্রয় নেওয়া হয়। এমনকি বৈদেশিক মুদ্রার জন্য বিমানবন্দরের ব্যাংকে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রা নেই বলে জানানো হয়। ফলে যাত্রীরা ব্যাংকের পাশে অবস্থানরত দালালদের কাছ থেকে বেশি দামে মুদ্রা কিনতে বাধ্য হন। টার্গেটকৃত যাত্রীদের পাসপোর্ট ও টিকিট চেক করার সময় তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকায় দেশ ছেড়ে যেতে দেওয়া সম্ভব নয়— এমন ভুয়া অভিযোগ তুলে কোনো না কোনো যাত্রীর কাছ থেকে উেকাচ আদায়ের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটেছে। শাহজালালের যাত্রী হয়রানি বন্ধে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে না দায়িত্বপ্রাপ্তদের অসততার কারণে। দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দরের দুর্নাম ঘোচাতে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে কঠিন হতে হবে। হয়রানির অপনায়কদের কবল থেকে উদ্ধার করতে হবে দেশের প্রধান বিমানবন্দরকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow