Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৪০
পদ্মা সেতু নির্মাণযজ্ঞ
বিশ্ব জানবে বাংলাদেশের সামর্থ্য

পদ্মা সেতু ও সংলগ্ন পদ্মার চর এলাকায় চলছে সুবিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। জাতীয় অহংকারের প্রতীক হয়ে ওঠা মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে।

মূল কাজের প্রায় ৪১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যে। এ সেতু ঘিরে পদ্মাপাড়ে চলছে মহাকর্মযজ্ঞ। পদ্মার চরে গড়ে উঠবে বিশ্বমানের প্রজাপতি জাদুঘর, সিঙ্গাপুরের আদলে অলিম্পিক ভিলেজ। সেতুর পাশেই ক্রীড়াপল্লী ও অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতুর ৩৭তম গ্রুপ পাইলের কাজ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। অচিরেই পাইলের ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে পিলার। একটি পিলার থেকে আরেকটি পিলারের ওপর বসবে সুপারস্ট্রাকচার; তারপরই বাস্তবে দৃশ্যমান হবে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো। স্মর্তব্য, পদ্মা সেতুর ৬টি গ্রুপ পাইলের ওপর দাঁড়াবে একটি পিলার। যার ওপর এ সেতুর মূল অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাওয়া প্রান্তে টোল প্লাজার শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে চলছে স্প্যান ও গার্ডার সংযোজনের কাজ। ২০১৮ সালের মধ্যে স্বপ্নের এ সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহত্তম নদী পদ্মার মাওয়া ও জাজিরা পয়েন্টের মধ্যে সৃষ্টি হবে মেলবন্ধন। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করবে এই সেতু। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিন কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে এ সেতুর কারণে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া এ বিশাল জনপদের মানুষের এগিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করবে এই স্বপ্নের সেতু। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নের সিদ্ধান্ত থেকে বিশ্বব্যাংক সরে আসে দুর্নীতির কল্পিত অভিযোগ তুলে। বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা মনোভাবে লাগাম পরাতে এ দেশীয় এজেন্টদের প্ররোচনায় একটি বিশেষ দেশ বিশ্বব্যাংককে অন্যায় সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে। যে প্রকল্পের জন্য অর্থ ছাড় করা হয়নি সে অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সে স্রেফ আষাঢ়ে গল্প তা কানাডার আদালতের রায়েও প্রমাণিত হয়েছে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। বাস্তবায়নের পর এ সেতু স্বভাবতই ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন ও অহংকারের প্রতীক হিসেবে মর্যাদা পাবে অচিরেই। একাত্তরে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের সাড়ে চার দশক পর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে এই স্বপ্নের সেতু।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow