Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৪২
কোরআন বোঝার সহায়ক শানেনুজুল
মুফতি আনিসুর রহমান জাফরী

যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে উসুলে তাফসিরের পরিভাষায় ওই ঘটনাপ্রবাহকে শানেনুজুল বলা হয়। পবিত্র কোরআন বোঝার ক্ষেত্রে শানেনুজুলের গুরুত্ব অপরিসীম।

আল্লামা জারকাশী (র.) শানেনুজুলের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, শানেনুজুলের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এর মাধ্যমে কোরআনের আহকামসমূহের নিগূঢ় রহস্য জানা যায়। (আল বুরহান : ১/২২)। যেমন আল্লাহর বাণী, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছেও যেও না। ’ (সূরা নিসা : ৪৩)। শানেনুজুল সম্পর্কে না জানলে প্রশ্ন ওঠতে পারে, মদপান হারাম হওয়া সত্ত্বেও কোরআন কেন মদপান অবস্থায় নামাজের কাছেও যেতে নিষেধ করেছে? মূলত, এ আয়াত তখন নাজিল হয়েছে যখন মদপান হারাম হয়নি। যখন একজন সাহাবি মদপান করে নামাজে দাঁড়ায় তখন তিনি সূরা কাফেরুন তেলাওয়াতে ভুল করে। তাই আল্লাহতায়ালা এ আয়াত নাজিল করে সতর্ক করে দিয়েছেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ১/৫০০)।

শানেনুজুল জানা না থাকলে আয়াতের বাহ্যিক অর্থের কারণে ভুল বোঝার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এমনকি সাহাবিরাও এরূপ ভুল বুঝতেন। একদল সাহাবি হজরত ওমর (রা.)-এর কাছে মদপান হালাল হওয়ার দলিল দেন এ আয়াত দিয়ে- ‘যারা ইমান এনেছে ও নেক আমল করেছে তারা যা আহার করেছে তাতে কোনো পাপ নেই। (সূরা মায়েদাহ : ৯৩)। ওই সাহাবিরা বলতে লাগলেন, ইমান ও সৎকর্ম থাকলে যে কোনো কিছু আহার করার অনুমতি রয়েছে। আর এতে কোনো পাপ নেই তাও বলা হয়েছে। সুতরাং ইমান ও সৎকর্মের সঙ্গে মদপান করলে দোষের কিছু হবে না। এ কথা শুনে ওমর (রা.) মুফাসসির হজরত ইবনে আব্বাসকে ডাকলেন। ইবনে আব্বাস (রা.) এ আয়াতের শানেনুজুল উল্লেখ করে সাহাবিদের ভুল ভাঙিয়ে দেন। তিনি বলেন, মদ হারাম হওয়ার আগে যেসব সাহাবি মারা গেছেন তাদের আমলনামায় তো মদপানের গুনাহ আছে। এ অবস্থায় তাদের ফায়সালা কী হবে? এ প্রশ্নের জবাবে আল্লাহতায়ালা এ আয়াত নাজিল করেন। (তাফসিরে কুরতুবি : ৬/২৯৭)।

আল-কোরআনের মমার্থ বোঝার ক্ষেত্রে শানেনুজুলের গুরুত্ব অপরিসীম। তা সত্ত্বেও উসুলবিদরা শানেনুজুল গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা দিয়েছেন। যা মেনে চলা আবশ্যক। শানেনুজুল নিয়ে বাড়াবাড়ি করা সাহাবিরা পছন্দ করতেন না। পূর্ববর্তী অনেক মুফাসসির শানেনুজুুলের পিছনে এত বেশি পরিশ্রম করেছেন যে, তারা জাল রেওয়াতও গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে যা ওয়ায়েজদের কাছে মুখরোচক হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। তাই কোনো কিছু গ্রহণ করতে হলে তা সহি কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন উসুলবিদরা।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মুুহীউস সুন্নাহ আইডিয়াল মাদ্রাসা, ডগাইর, ডেমরা, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর
up-arrow