Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:২৬
ধর্মতত্ত্ব
সন্তানকে উত্তম শিক্ষা দিতে হবে
মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন
সন্তানকে উত্তম শিক্ষা দিতে হবে

সন্তান পিতা-মাতার জন্য আনন্দের কারণ। খুশির বিষয়।

প্রথম সন্তান যখন জন্ম নেয় তখন পিতা-মাতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনের মনে আনন্দের বৃষ্টি বর্ষিত হয়। খুশির জোয়ার সৃষ্টি হয়। নতুন অতিথিকে নিয়ে শুরু হয় দুই পরিবারে কাড়াকাড়ি। আদরের ছড়াছড়ি। সন্তান যখন ধীরে ধীরে বড় হয় তখন পিতা-মাতার দায়দায়িত্ব বেড়ে যায়। শিশু জন্মের পরপরই তার কানে আজানের বাক্যগুলো উচ্চারণ করতে হবে। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু রাফি (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা (রাযি.) যখন হাসান ইবনে আলী (রাযি.)-কে প্রসব করলেন তখন আমি দেখলাম, রসুল (সা.) তাঁর কানে আজানের মতোই আজানের বাক্যগুলো বললেন (তিরমিজি, আবু দাউদ)। শিশুর মুখে কোনো আল্লাহওয়ালার মুখের মিষ্টি খাবার চিবিয়ে দেওয়া সুন্নত। এটাকে তাহনিক বলে। হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি মক্কায় থাকতেই আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরকে নিয়ে গর্ভবতী হন। আসমা বলেন, (হিজরতের পথে) কুবায় এসে আমি তাকে প্রসব করি। তারপর তাকে নিয়ে এসে রসুল (সা.)-এর কোলে দিই। তিনি তাকে কোলে রেখে খেজুর আনতে বললেন এবং খেজুর চিবিয়ে সন্তানের মুখের তালুতে লাগিয়ে দিলেন। তারপর তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন (বুখারি, মুসলিম)। জন্মের সপ্তম দিন আকিকা করা ও নাম রাখা সুন্নত। মহিলা সাহাবি হজরত উম্মে কুরয (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা পাখিদের তাদের বাসায় থাকতে দাও। (অর্থাৎ এদের উড়িয়ে শুভাশুভ নির্ণয় করতে যেও না। ) উম্মে কুরয আরও বলেন, আমি রসুলকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, ছেলে হলে দুটি ছাগল দিয়ে আকিকা করবে, আর মেয়ে হলে একটি দিয়ে। এগুলো পুরুষ হোক আর মাদি হোক, এতে কোনো ক্ষতি নেই (আবু দাউদ)। এখানে ছেলের জন্য দুটি ছাগল আর মেয়ের জন্য একটি এ জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে যে, আকিকা করা হয় সন্তানের ওপর থেকে যেন বিপদাপদ দূর হয়ে যায়। ছেলে বেশি চঞ্চল হওয়ার কারণে তার ওপর বিপদ আসার আশঙ্কা বেশি। আর মেয়ে স্বভাবত শান্ত হওয়ার কারণে বিপদের আশঙ্কা কম। তাই ছেলের জন্য দুটি ছাগল দিয়ে আকিকা করবে যেন আল্লাহতায়ালা এর উসিলায় তাকে বিপদ থেকে হেফাজত করেন। শিশু যখন কথা বলা শেখে তাকে প্রথমেই কালেমা শেখাতে হবে। আল্লাহর নাম বলা  শেখাতে হবে। হজরত আমর ইবনে শু’আইব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দাদা রসুল (সা.) থেকে যে সব হাদিস লিপিবদ্ধ করেছিলেন, সেখানে আমি পেয়েছি যে, তিনি বলেছেন : তোমাদের সন্তানরা যখন কথা বলতে শেখে তখন তাদের কালেমা শেখাও। তারপর তারা কখন মারা গেল, এ বিষয়ে চিন্তা কর না (অর্থাৎ যখনই মারা যাবে, ইমানি মৃত্যুর আশা করা যায়)। তাদের যখন দাঁত পড়ে তখন (অভ্যাসের জন্য) নামাজের হুকুম দাও। মেশকাত শরিফ। হজরত আবু সাঈদ ও ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : যার কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করল, তার কর্তব্য হচ্ছে সন্তানের সুন্দর নাম রাখা ও উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া। সন্তান যখন প্রাপ্তবয়স্ক হবে তখন সে তার বিয়ের ব্যবস্থা করবে।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow