Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫০
রসুল (সা.) ও সাহাবিদের সুন্নত অনুসরণ করতে হবে
আল্লামা মাহমূদুল হাসান
রসুল (সা.) ও সাহাবিদের সুন্নত অনুসরণ করতে হবে

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত আর সাহাবাদের সুন্নত ভিন্ন। আর দুটিই মানা জরুরি।

কারণ রসুলের হাদিসেই ইরশাদ করা হয়েছে, ‘তোমরা আমার সুন্নত ও সাহাবিদের সুন্নতকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর এবং তার ওপর অটল থাক। ’

কোরআন মহান আল্লাহর অমোঘ বিধান। আর সেই কোরআনের প্রতিচ্ছবিই ছিল রসুলের জীবনাচার। এদিক বিবেচনা করলে রসুলের সুন্নত হলো আল্লাহর সুন্নতের বিশ্লেষক। আর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সুন্নতসহ সাহাবিদের সুন্নতকে দাঁতের মাড়ি দিয়ে যেভাবে কোনো বস্তু কামড়ে প্রকটভাবে ধরা যায় সেভাবে আঁকড়ে ধরতে বলেছেন। ধরুন, আপনি কোথাও যাচ্ছেন। বাসে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। আপনি দরজার উপরের হাতল ধরে বাদুড়ঝোলা হয়ে আছেন। এখন যদি আপনি ধরার মতো ধরেন, তাহলে বাস আপনাকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবেই। যে করেই হোক, বাসকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরলে সে টেনেহেঁচড়ে হলেও লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দেবে। কিন্তু মজবুতভাবে না ধরে থাকলে ছিটকে পড়বেন এটাই স্বাভাবিক। এটা বাসের দোষ নয়। তেমনি সুন্নতকেও শক্তভাবে ধরলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন, ছেড়ে দিলে তো আপনারই দোষ। যদি প্রকটভাবে আঁকড়ে ধরেন, তাহলে আপনাকে শান্তির ঠিকানায় পৌঁছাবেই দুনিয়াতেও আখেরাতেও।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (ভাবার্থ) আমার দুই ‘হাত’ রেখে গেলাম— একটি আল্লাহর কিতাব; অপরটি আমার সুন্নত। এ দুই হাত এমন যে, তাতে কোনো সংশোধনী আনতে হয় না, আনা যায়ও না। কারণ কোরআন শরিফের প্রথমেই আল্লাহতায়ালা বলেছেন : ‘এটি এমন কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; কোনো ভুল নেই। ’ (সূরা বাকারা : ২)

একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, মানুষের চেহারা। এ চেহারার চেয়ে ভালো ও উন্নত কোনো কাটিং-ডিজাইন দ্বিতীয়টি নেই। কেউ চায় না, তার চোখ অন্যখানে হোক; তার চোখকে নাকের নিচে এনে লাগিয়ে দেওয়া হোক। কিংবা তার মুখ অন্যত্র হোক, মুখকে নাকের ওপর এনে স্থাপন করা হোক। যে নকশায় আল্লাহ সর্বপ্রথম মানুষের চেহারা সাজিয়েছিলেন, তা আজ অবধি বিদ্যমান। কেউ এ পুরনো নকশার প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করেনি। না কারও এ নকশার প্রতি অনীহা চলে এসেছে। না বলেছে, এ নকশা সংস্করণ করা উচিত। আল্লাহর নিয়ম আদি থেকে চলে আসছে নিরবধি। খাবার খেয়ে হজম করার পদ্ধতিও সেকেলে। কেউ বলে না, অন্য পদ্ধতি দরকার। পেশাব-পায়খানার ক্ষেত্রেও যে নিয়ম প্রচলিত ছিল তা আজও আছে। অন্য নিয়মের প্রয়োজন বলে কেউ কোনো মানববন্ধন কিংবা আন্দোলন করে ধৃষ্টতা দেখায়নি।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow