Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৪
ইসলামী শিক্ষা জীবন চলার পথের নির্দেশিকা
হাফেজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক
ইসলামী শিক্ষা জীবন চলার পথের নির্দেশিকা

ইসলাম মানব জাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, ইসলামী শিক্ষা সে জীবনে চলার পথের নির্দেশিকা। শিক্ষা মানবতার মুক্তির জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য।

তবে যদি তাতে আদর্শের সংমিশ্রণ না থাকে, তাহলে হিতেবিপরীত হতে বাধ্য। ইসলামী শিক্ষার সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি একটি আদর্শভিত্তিক শিক্ষা। এখানে শিক্ষার্থীদের একত্ববাদে পূর্ণ আস্থাশীল করে তাওয়াক্কুল শরিয়ত পালনের যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়। ইসলাম মানবতার মুক্তি ও কল্যাণের একমাত্র গ্যারান্টি। মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও স্থায়ী মুক্তিও কল্যাণকর শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল। ইসলামী শরিয়তে বুত্পত্তিশীল আলেম গড়ার যেমন নিশ্চয়তা রয়েছে, তেমন ইমানের সঙ্গে পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ারও রয়েছে সমূহ সুযোগ। কালামুল্লাহর ঘোষণায় যেমন রয়েছে— “অতঃপর যখন নামাজ সমাপ্ত হয়ে যায়, তখন তোমরা আপন কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অন্বেষণ কর। ” (সূরা জুমা : ১০)

পার্থিব জীবন উপকরণ অন্বেষণের জন্য নিঃসন্দেহে পার্থিব শিক্ষার প্রয়োজন। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে বদর যুদ্ধের ব্যাপারে ইসলামের সিদ্ধান্ত দ্বারা, যেখানে বন্দীদের একটা বিশেষ অংশের মুক্তিপণ ধার্য করা হয় মুসলমানদের শিক্ষাদান করা। মুসলমানরা নিশ্চয়ই তাদের থেকে কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান নেননি। শিখেছেন পার্থিব জীবন চলার উপায়-উপকরণ শিক্ষা। অপরিকল্পিত শিক্ষা শুধু কিছু ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠাদান ছাড়া জাতীয় উন্নতি ও  অগ্রগতিকে কখনো বেগবান করতে পারে না। ইসলামী শিক্ষায় তাই এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইসলামী শিক্ষার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে সব নাগরিক সাধারণভাবে প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। এরপর পরিকল্পিতভাবে দেশের সব অঞ্চল থেকে বাছাইকৃত মেধাবী ও আগ্রহীদের দীনের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা ইসলামী শিক্ষার অন্যতম লক্ষণীয় বিষয়। কালামুল্লাহয় ইরশাদ হয়েছে— “কেন এমন হয় না যে, তাদের প্রতিটি গোত্র থেকে একটি দল বের হয়ে আসবে এবং দীনের জ্ঞানে পাণ্ডিত্য লাভ করত নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের ভীতি প্রদর্শন করবে, যাতে তারা সতর্ক হয়। ” (সূরা তাওবা : ১২২)

এ নিয়মেই ইসলামী মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষক ও সামাজিক নেতৃত্বদানের পারঙ্গম তথা যুগ সমস্যার সমাধানে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

     লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow