Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০৮
মানবতার সেবায় নবী (সা.)-এর আদর্শ
মুফতি আমজাদ হোসাইন হেলালী
মানবতার সেবায় নবী (সা.)-এর আদর্শ

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘সে তো বন্ধুর গিরিপথ অবলম্বন করেনি, তুমি কি জান, বন্ধুর গিরিপথ কি? তা হচ্ছে দাসমুক্তি অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার্য দান, এতিম আত্মীয়কে অথবা দরিদ্র, নিষ্পেষিত নিঃস্বকে। অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ইমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার (করুণার)।

  তারাই সৌভাগ্যশালী। আর যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই হতভাগা। তারা অগ্নিপরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে। (সূরা বালাদ : ১১-২০)। আলোচ্য আয়াতসমূহের প্রথম আয়াতে (আকাবা) শব্দ রয়েছে। যার অর্থ হলো, পাহাড়ের বড় পাথর বা দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী গিরিপথ তথা মাটি। শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য এ পাহাড়ের রয়েছে বিরাট অবদান। অর্থাৎ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে শত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করা যায়। নিচের মাটির মাধ্যমেও শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পাহাড় ও মাটির মাধ্যমে যেভাবে মানুষ শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। অনুরূপ নেক-আমল তথা ফারায়েজ, ওয়াজিবাত ও সুনান আদায় করার পর আর্তমানবতার সেবা দ্বারাও আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আর্তমানবতার সেবার মধ্যে দাসমুক্তি, ক্ষুধার্তকে অন্নদান বিরাট সওয়াবের কাজ ও আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষার অনেক বড় মাধ্যম। বিশেষভাবে যদি আত্মীয়-স্বজন ও এতিমকে অন্নদান করা হয়, তাতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। এক. ক্ষুধার্ত ব্যক্তির ক্ষুধা দূর করার সওয়াব। দুই. আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর ও আত্মীয়তা বজায় রাখার সওয়াব। সমাজে অনেক ক্ষুধার্ত মানুষ আছে তাদের খবর নেওয়ার কেউ নেই। কত লোক অনাহারে দিন যাপন করছে অথচ কেউ জানে না যে সে কে? নবীজীর আদর্শ হলো, মানুষের দ্বারে দ্বারে তাদের ইমান ও আমলের খোঁজখবর নেওয়া। সঙ্গে সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার বিষয়াদি জিজ্ঞাসা করা। অভাবীদের অভাব দূর করার সাধ্যমতো চেষ্টা করা। হজরতে সাহাবায়ে কেরামরা নবীজীর আদর্শে শত-পার্সেন্ট জীবন পরিচালনা করেছেন। তাই তো বহু সাহাবায়ে কেরামের ইতিহাস থেকে জানা যায়, তারা রাতের আঁধারে ঘর থেকে বের হয়ে অপর ভাইয়ের খোঁজখবর নিতেন। অভাবীদের অভাব সাধ্যমতো দূর করার চেষ্টা করতেন। এ কারণেই মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে অনাবিল শান্তির জায়গা জান্নাতের শুভ সংবাদও তারা অর্জন করেছিলেন। আর্তমানবতার সেবার গুরুত্ব প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেন, কওমের নেতা সফরের অবস্থায় তাদের খাদেম থাকবে। যে ব্যক্তি খেদমতের মাধ্যমে তাদের মধ্যে অগ্রগামী হবে কেউ তাকে আমলের মাধ্যমে পেছনে ফেলতে পারবে না। অবশ্য শহীদ ব্যক্তি (শহীদ ব্যক্তি অগ্রগামী হতে) পারবে। (মিশকাত : ৩৪০)। প্রিয় পাঠক! মনে রাখতে হবে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। সমাজের প্রতিটি অঙ্গনে রয়েছে ইসলামের পদচারণা। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রেই ইসলামের বিধান রয়েছে। ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের জন্য বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপিত হয়েছে। আপনি একটু লক্ষ করুন! এমন একটি সমাজে ইসলাম শান্তি স্থাপন করছে যে সমাজে নৈতিকতার চরম বিপর্যয় ঘটেছিল। এ সমাজে মানুষের কাছে মানুষের কোনোই মূল্য ছিল না। হ্যাঁ যাদের কাছে ক্ষমতা ও অর্থ ছিল তাদের কিছুটা মূল্যায়ন ছিল। সেখানে দুর্বলের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার ছিল না। কথা বলার সুযোগ ছিল না। সে সমাজে মানুষ পণ্যের মতো বেচাকেনা হতো। তৎকালীন সময় এমন কিছু সমাজসেবকের আগমন ঘটেছিল, তারা মানবতার সেবা বলতে কিছুই করত না। তারা শুধু সাধারণ মানুষকে শোষণ করত, জুলুম করত। ফলে সীমিত সংখ্যক মানুষের হাতে সম্পদের পাহাড় জমা হতো। এতিম ও শিশুদের মাল পাহারা দেওয়ার নামে আত্মসাৎ করত। এ ঘুণেধরা সমাজে রহমতে আলম (সা.) আল্লাহর নির্দেশে প্রদত্ত বিধানের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন করেন। তিনি কৈশোর থেকে যৌবনের ৪০ বছর পূর্ব পর্যন্ত মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার দারুণ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি অর্জন করেছিলেন। তাই তো জনসাধারণ সবাই একসঙ্গে তাকে উপাধি দিয়েছিল আল-আমিন। মহানবী (সা.) জনসাধারণের কল্যাণে নিজের পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করেছিলেন। মহানবী (সা.) ‘হিলফুল ফুজুল’ বা সেবা সংঘের মাধ্যমে আর্তমানবতার সেবা, অত্যাচারিতের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের দ্বারা সব মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।   এমনকি তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করলেন ‘উন্নত চরিত্র মাধুরীর পূর্ণতা বিধানকল্পে আমি এ পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি। ’

     লেখক : মুহাদ্দিস, মুফাসসির, খতিব বারিধারা ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow