Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০৮
মুসলিম বিশ্বে আলোর পয়গাম
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর
মুসলিম বিশ্বে আলোর পয়গাম

বারো আউলিয়ার পুণ্যস্মৃতি চট্টগ্রাম। পাহাড়, নদী, সাগর এই তিনের মিতালী চট্টগ্রামকে পরিণত করেছে এক মায়াবী জনপদে।

এমনি এক নদীর নাম ‘হালদা’। বছরের এক নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে মাছের ‘ডিম ছাড়ার কেন্দ্র’ তথা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এই হালদা নদী। কর্ণফুলী থেকে বেরিয়ে এসে পল্লবঘন তরুরাজিবেষ্টিত সদা বহমান এ হালদা নদীর তীরে অবস্থিত ছায়াময় কাগতিয়া গ্রাম, একটি স্বপ্নিল নাম উপজেলা- রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে এ গ্রামের মাইজপাড়ার সম্ভ্রান্ত ও ইতিহাসখ্যাত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জগদ্বিখ্যাত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুল্লাহ, আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রসুল (সা.) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.)।   গাউছুল আজমের বৈশিষ্ট্য হলো— তিনি যুগে যুগে পৃথিবীকে একটি সুতায় গ্রথিত করার প্রয়াস চালিয়ে থাকেন। যা তার শিক্ষা-দীক্ষা, আচার-আচরণ, কর্মপ্রণালি ও রচনাবলির মাধ্যমে বিকীর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি জাগতিক মোহে আবদ্ধ না থেকে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে লিপ্ত থাকেন এবং মানুষ জাগতিক ভোগবিলাসে মাত্রাতিরিক্ত আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাদের কৃচ্ছ্রতাময় জীবনের আহ্বান জানিয়ে থাকেন।

তাই তো দেখা যায়, হজরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.) দরবারে দোয়াপ্রার্থী হিসেবে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলমানের সমাগম। ইসলামের অসাম্প্রদায়িকতার এ যেন এক অপূর্ব দৃশ্য। এ মহান মনীষীর অবিনশ্বর কীর্তি হলো- কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এমএ মাদ্রাসা। আজ এ প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার আলেম ইসলামী আরবি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দেশমাতৃকার খেদমত করে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠা করেন বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ইসলামী পাঠাগার। গতানুগতিক প্রথাসর্বস্ব পীর-মুরিদির উপলব্ধিহীন ইবাদতের পরিবর্তে শরিয়তের সঙ্গে রুহানিয়তের সমন্বয়ে এক অনন্য ধ্যান-ধারণার আলোকে প্রদীপ্ত, সুস্পষ্ট উপলব্ধিগত, বাস্তবস্পর্শ সত্য আধ্যাত্মপথকে আলোকবর্তিকারূপে গ্রহণ করাই হচ্ছে এ মহান মনীষীর তরিকতের প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রম। তিনি জ্ঞানের সেই দিকটির প্রতিনিধিত্ব করছেন যা হৃদয় থেকে হৃদয়ে পরিবাহিত হয় এবং অনুভূতি ও ধ্যানের ওপর নির্ভরশীল প্রত্যক্ষ ও সঙ্গজাত জ্ঞানের রূপান্তর। এ যেন কোয়ান্টাম ফিজিক্সের Extra Sensing Perception এর নামান্তর।   ইসলামের অন্তর্নিহিত শক্তি নূর বা আলো; এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়া পর্যন্ত মানবীয় দোষত্রুটি দূরীভূত হয় না- অধৈর্য, অকৃতজ্ঞতা, অনৈক্যতা, অহংকার ইত্যাদি দোষাবলি হতে মুক্ত হওয়া যায় না। কালজয়ী আধ্যাত্মিক মনীষী হজরত শায়খ ছৈয়দ গাউছুল আজম (রা.) অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধির কাজটিই করতেন, যা বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। বিশ্ব আজ স্পষ্ট সুদৃষ্টিতে আলোকিত মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে; যত বেশিসংখ্যক আলোকিত মানুষের হার বাড়বে, ততই বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।

এ মহান মনীষী গত ৪ মে ২০১৬ বুধবার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তারই সান্নিধ্যে চলে যান। বর্তমানে তারই জাহিরি এবং বাতেনি যাবতীয় কাজ অবিকল আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন মুনিরিয়া যুব তবলিগ কমিটি বাংলাদেশ সভাপতি, আওলাদে রসুল হজরতুলহাজ আল্লামা শায়খ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। আগামী ৪ মার্চ শনিবার ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ সম্মুখস্থ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক এশায়াত সম্মেলন।   এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে নূরে মুহাম্মদী (সা.)’র জ্যোতিতে আলোকিত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

লেখক : সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow