Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:১০
হেদায়াতের মালিক আল্লাহ
মাওলানা শাহ্ মো. শফিকুর রহমান
হেদায়াতের মালিক আল্লাহ

হেদায়াত তথা ইমান সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন সে-ই সঠিক পথ লাভ করে।

আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন তার জন্য তুমি কোনো অভিভাবক কিংবা পথপ্রদর্শক পাবে না। ’ (সূরা আরাফ : ১৭৮)। ‘আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে আর সঠিক পথে পরিচালিত করেন না। আর এ ধরনের লোকদের কেউই সাহায্য করতে পারে না। ’ (নাহল : ৩৭)। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) কোনো এক খোতবায় বলেছেন, ‘আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করে তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। ’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫৬৬)। আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন, আল্লাহ পথভ্রষ্ট করার কারণেই সে সৎ পথে চলতে পারছে না। আল্লাহ চাইছে না বিধায় সে ভালো কাজ, নামাজ-রোজা, দান-সদকা করতে পারছে না। যারা এমনটি মনে করেন, নিঃসন্দেহে তারা স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে আছেন। মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী উপলব্ধি করার পরও যে ব্যক্তি কুফর ও পাপাচারের পথে অবিচল থাকে, আল্লাহতায়ালা কেবল তাকেই গোমরাহ করে দেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর রীতি হলো, যারা বিবেক খাটিয়ে, বুদ্ধি প্রয়োগ করে কাজ করে না আল্লাহ তাদের ওপর ‘অপবিত্রতা’ চাপিয়ে দেন। ’ (ইউনুস : ১০০)। ‘অপবিত্রতা’র ব্যাখ্যায় হাসান বসরি (র.) এবং অন্যান্য মুফাসসির বলেন, ‘আল্লাহ তাদের ওপর কুফর চাপিয়ে দেন। ’ (বাহরুল মুহীত)। ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসির (র.) বলেন, ‘গোমরাহী চাপিয়ে দেন। ’ (ইবনে কাসির। ) আল্লাহ বলেন, ‘এ কথা সত্য যে, এমন অনেক জিন ও মানুষ আছে যাদের আমি জাহান্নামের জন্যই সৃষ্টি করেছি। কারণ তাদের দিল-অন্তর আছে, এ দ্বারা তারা আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তা করে না। তাদের চোখ আছে, কিন্তু তারা দেখে না। তাদের কান আছে, কিন্তু তারা শোনে না। তারা পশুর মতো বরং তারচেয়েও নিকৃষ্ট। এরাই ওইসব লোক যারা গাফিলতির মধ্যে পড়ে আছে। ’ (আরাফ : ১৭৯)। এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে বলেছেন, অন্তর, চোখ, কান দিয়ে আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা এবং উপলব্ধি না করে বান্দা নিজেই গোমরাহীর উপযুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করে দেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাঁর বিশেষ করুণায় ইমান নামক অমূল্য সম্পদ দান করেছেন। আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার শির অবনত করা। তাহলে আমাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেবেন।   অন্যথায় আমরাও তার কঠিন পাকড়াও থেকে রেহাই পাব না। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আমার নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর, তবে আমি তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে আমার শাস্তি বড় কঠিন। (ইবরাহিম : ৭)।

লেখক : খতিব, আমলীগোলা জামে মসজিদ, লালবাগ, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow