Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৬
পাঠক কলাম
ক্ষমতায় থাকলে এক বাইরে থাকলে আরেক

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ‘রক্ষাকবচটি’ ভারতের হাতেই ন্যস্ত ছিল। এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থীর আহার, আশ্রয়, নিরাপত্তার ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্রশস্ত্রের জোগান দেওয়া, (বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়ার ‘জেড ফোর্স’সহ) বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুক্তি তুলে ধরা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ‘অধিকার’ ব্যাখ্যা করা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবশ্যম্ভাবিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা, মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ।

আর ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণের ছিল অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের এই একাডেমি পরিদর্শনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা উন্মুক্ত হয়েছে বলে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির নেতার মন্তব্য অযাচিত বলেই ধারণা করা হয়। তবে যুদ্ধাপরাধীদের জেনেশুনে মন্ত্রী করার সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা কতখানি পাচার হয়েছে এসব মন্ত্রীর সহায়তাকারী বাংলাদেশের অনিষ্টকারীরা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে কিনা তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে হয়।

স্মরণ করা যেতে পারে, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর বৈদেশিক বাণিজ্যে শামিল হওয়ার প্রধান শর্ত, এক আউন্স গোল্ড রিজার্ভও বাংলাদেশ ব্যাংকে ছিল না। সোনালি আঁশ পাটকে সম্পদ হিসেবে ধরে ভারত গ্যারান্টার হয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। ১৯৯২ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ভারতের ভোগ্যপণ্য আমদানির ওপর শতকরা ৪০% শুল্ককর মওকুফ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ ভারতীয় পণ্যে সয়লাব হয়ে যায়। এটা বাস্তব সত্য। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ৪০% শুল্ককর পুনঃ আরোপ করে। এও বাস্তব সত্য। তাই দেখা যায় ক্ষমতায় থাকলে ভারততোষণ, ক্ষমতার বাইরে থাকলে ‘ভারতবিদ্বেষ’ বিএনপির রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলাম ধর্ম অকৃতজ্ঞ হওয়ার শিক্ষা দেয় না। আমাদের জাতীয় চরিত্রের দৃঢ়তা আমাদেরই শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। স্যুট-টাই পরে আমরা ইংরেজ হয়ে যাইনি। মনেপ্রাণে বাঙালিই আছি। সেই ব্রিটিশ আমলে আমাদের বাপ-দাদারা ধুতিই পরতেন। কিন্তু নামাজের সময় হলেই ধুতির কাছাটা খুলে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। আমরা যারা ইসলামের অনুসারী ইসলামেই আছি। এ দেশের জলবায়ু, আবহাওয়ায়, এ দেশের মাটির গন্ধেই, আমরা বাঙালিরাই বাঁচব-মরব। আমাদের আলেম-ওলামা-ইমামরা ইসলামের ন্যায়বাদিতা, সত্যবাদিতা জানেন বলেই ইসলামের নামে প্রচারিত সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ রুখে দিয়েছেন। মুক্তচিন্তার বাহকরা ইসলামনামীয় ভেকধারীদের হাতে প্রাণ দিয়েছে। আত্মসমর্পণ করেনি। নাস্তিকতার স্থান বাংলাদেশে নেই।

 

     মোহা. নাছিরউল্লাহ খান

     ফকিরাপুল, ঢাকা।

up-arrow