Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৭
সামাজিক অস্থিরতা
সর্বনাশা থাবা ঠেকাতে হবে

দেশে সামাজিক অস্থিরতা ভয়াবহভাবে বাড়ছে এবং তা সাম্প্রতিক সময়ের একটি উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকাসক্তি ও মূল্যবোধের সংকট সামাজিক অস্থিরতায় ইন্ধন জোগাচ্ছে।

বাড়াচ্ছে হানাহানি ও অকারণ রক্তপাতের ঘটনাও। এমনকি জঙ্গিবাদের উত্থান অপচেষ্টার সঙ্গেও এ অস্থিরতার যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ধর্মঘট ছিল সারা দেশের একটি আলোচিত বিষয়। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যারা ধর্মঘট ও সহিংসতার উসকানি দিয়েছেন তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টি যে প্রশ্নবিদ্ধ তা সহজে অনুমেয়। এ হানাহানি দেশের অর্থনীতির জন্য যেমন সমূহ ক্ষতির কারণ সৃষ্টি করেছে তেমনি লাখ লাখ মানুষের জীবনে ডেকে এনেছে বিড়ম্বনা। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে পাঁচজনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া এবং পরিকল্পিতভাবে গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আহূত ধর্মঘট ও নৈরাজ্য নিজেদের জন্যও যে কল্যাণকর হয়নি তা স্পষ্ট। সহিংসতায় একজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং এ-সংক্রান্ত মামলায় বিপুলসংখ্যক পরিবহন শ্রমিকের জন্য যে দুর্ভোগ অনিবার্য হয়ে উঠবে তা কোনোভাবে কাম্য ছিল না। মাদকাসক্তি দেশের যুবসমাজকে সর্বনাশের গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কথায় কথায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা দানা বেঁধে ওঠার পেছনে মাদকাসক্তির প্রভাব একটি দৃষ্টিযোগ্য বিষয়। যে ছাত্রসমাজ দেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, একসময় জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার লক্ষ্যস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে যারা, তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব বাড়ছে অনভিপ্রেতভাবে। সন্ত্রাসবাদ ও কূপমণ্ডূকতার প্রতিভূ জঙ্গিবাদের সঙ্গে দৃশ্যত শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়ার পেছনে মাদকাসক্তি ও মূল্যবোধহীন শিক্ষার সম্পর্ক আছে বলে ধারণা করা হয়। সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে মাদকাসক্তি রোধ ও সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হতে হবে। দেশের প্রাণশক্তি যুবসমাজকে সব ধরনের সর্বনাশা থাবা থেকে মুক্ত করতে সমাজসংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য।

up-arrow