Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১৮
ধর্মতত্ত্ব
মৃত্যু উদ্যানের যুদ্ধ

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর কয়েকজন ভণ্ড নবীর আবির্ভাব হয়। প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) ভণ্ড নবীদের দমনে কঠোর অবস্থান নেন।

তার নির্দেশে খেলাফতের বীর সেনাপতি খালিদ-বিন-ওয়ালিদ নাজদের ভণ্ড নবী তুলায়হার বিরুদ্ধে প্রথমে অগ্রসর হন। তিনি তার ওপর ন্যস্ত কর্তব্য পালন করে যোগ্যতার পরিচয় দেন। তিনি বুজাকার যুদ্ধে তুলায়হাকে পরাজিত করেন। তুলায়হা পরাজিত হয়ে পলায়ন করেছিলেন। তার গোত্র বানু আসাদকে ক্ষমা করা হলে তুলায়হা মদিনায় ফিরে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন।

তুলায়হাকে দমন করার পর খালিদ-বিন-ওয়ালিদ তামিম গোত্রের বিরুদ্ধে সৈন্য চালনা করলেন। নবী করিম (সা.)-এর মৃত্যুর পর বানু তামিম ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে। এ ধর্মত্যাগী গোত্রে সাজাহ নাম্নী একজন মহিলা ইসলামবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে। সে বানু তামিমের উপগোত্র বানু ইয়ারবু বংশে জন্মগ্রহণ করেছিল।

মালিক-বিন-নুবায়রার নেতৃত্বে বানু ইয়ারবুর লোকজন সাজাহর দলে অবস্থান নিলেও তামিম গোত্রের উপগোত্রসমূহ সাজাহকে নবী বলে স্বীকার করতে চাইল না। স্বীয় গোত্রের বিরোধিতায় অসন্তুষ্ট হয়ে সাজাহ ইয়ামামার ভণ্ড নবী মুসায়লামার সঙ্গে মিলিত হলো। সে মুসায়লামাকে বিবাহ করে তার সঙ্গে কয়েক দিন অবস্থানের পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করল।

এ সময়ে তামিম গোত্রের উপগোত্রসমূহ খালিদের আনুগত্য স্বীকার করে নিল। কিন্তু ইয়ারবু গোত্রের নেতা মালিক-বিন নুবায়রার আনুগত্য অস্বীকার করল। খালিদ তাকে যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করলেন। ভণ্ড নবীদের মধ্যে মুসায়লামা খুব শক্তিশালী ছিল। হজরত আবু বকর (রা.) প্রথম ইকরামা ও শুরাহবিলকে তার বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। কিন্তু তারা মুসায়লামাকে দমন করতে ব্যর্থ হলে খলিফা খালিদ-বিন-ওয়ালিদকে তার বিরুদ্ধে পাঠান। ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে খালিদ মুসায়লামার ইয়ামামার যুদ্ধে পরাজিত করেন। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শত্রুরা প্রাচীরবেষ্টিত বাগানে আশ্রয় নিল। কিন্তু বাগান আশ্রয়স্থল না হয়ে কসাইখানায় পরিণত হলো; এখানে এক ভীষণ যুদ্ধ হলো। ইতিহাসবিদ জোসেফ হেলের মতে, ‘ইয়ামামার যুদ্ধ কঠিনতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধসমূহের অন্যতম ছিল। এ যুদ্ধে মুসায়লামাসহ হানিফ গোত্রের হাজার হাজার লোক মারা যায়।   এ জন্য আরব ঐতিহাসিক তারাবী একে ‘মৃত্যু-উদ্যানের যুদ্ধ’ নামে অভিহিত করেছেন। এভাবে স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে সর্বাপেক্ষা কঠিন যুদ্ধ শেষ হলো। মৃত্যু উদ্যানে যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা ধর্মদ্রোহীদের মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে দেয়। বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয় ঢুকাতেও সামর্থ্য হয় এই যুদ্ধ।

শাকিল জাহান

এই পাতার আরো খবর
up-arrow