Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৪
জনশক্তি রপ্তানিতে অনিয়ম
দুর্নীতি বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে

প্রবাসী শ্রমিকদের আয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণভোমরার ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে রেমিট্যান্স আয়।

দেশের প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এ খাতটি। প্রশিক্ষিত কর্মী সৃষ্টির ক্ষেত্রেও এ খাতের অবদান অনস্বীকার্য। বিদেশে লব্ধ কর্ম-অভিজ্ঞতার বদৌলতে প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকেই দেশের উন্নয়নে তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছেন। শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও রেখেছেন অসামান্য অবদান। দেশের অন্তত চার কোটি মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিকদের আয় থেকে। দেশের কল্যাণে বিশাল অবদান রাখলেও প্রবাসী শ্রমিকরা সব ক্ষেত্রেই উপেক্ষার শিকার। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি দালালনির্ভর হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান বাংলাদেশের শ্রমিকরা। টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, ভিসা কেনাবেচা ও দালালদের দৌরাত্ম্যে কাজ নিয়ে বিদেশ যেতে তাদের ৩ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। যে টাকা খরচ করে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যান তা উসুল করাও অনেকের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দুর্নীতি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে প্রবাসী শ্রমিকদের শ্রমের বড় অংশই লুটেপুটে খান জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। জনশক্তি রপ্তানির দেখভালের দায়িত্ব প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। এ দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যারা যুক্ত তারা নিজেরাই ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছেন এমন অভিযোগই পেয়েছেন টিআইবির গবেষকরা। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে যাওয়া বিদেশগামী পুরুষের ৯০ শতাংশই দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার। ভিসা বা চাহিদাপত্র কিনতে ২০১৬ সালের মে থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। তেলের দাম হ্রাস এবং অর্থনৈতিক মন্দার জন্য বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। তার পরও বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হচ্ছে। এ মুহূর্তে বিদেশে কর্মরত রয়েছেন সরকারি হিসাবে ৮০ থেকে ৮৫ লাখ প্রবাসী। ২০১৬ সালে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন; যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সার্বিক বিবেচনায় তা সন্তোষজনক হলেও বিদেশে যাওয়ার খরচ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এ খাতের দুর্নীতি বন্ধে সরকার উদ্যোগ নেবে এমনটিই প্রত্যাশিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow