Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০৬
ইতিহাস
আবু বকরের অবদান

মহানবীর মৃত্যুর পর মুসলমানদের জন্য প্রথম বিপর্যয় দেখা দেয় খলিফা নির্বাচনের প্রশ্নে। ঐতিহাসিক পিকে হিট্টির কথায় ‘খিলাফতের প্রশ্নই ছিল ইসলামের প্রথম সমস্যা।

’ খলিফা নির্বাচনে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্যের উদ্ভব হলে আবু বকর (রা.) অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে এ পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন এবং অবস্থা আয়ত্তে আনেন। তার বিচক্ষণতা, নির্ভীকতা ও সত্যনিষ্ঠতা একটি অনিবার্য বিপর্যয়ের হাত হতে নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রকে রক্ষা করে। খিলাফতের ক্ষমতা গ্রহণের পরই আবু বকর (রা.)-কে আর একটা মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। এ সময় রিদ্দা বা স্বধর্মত্যাগ আন্দোলন ব্যাপক আকারে আত্মপ্রকাশ করে। ঐতিহাসিক মূরের কথায়, ‘সমগ্র উপদ্বীপের আরবরা তাদের স্বধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। ’ ইসলাম ও শিশু ইসলামী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এটা ছিল ইতিহাসের এক সংকটময় সময়। পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য এ সময় আবু বকর (রা.) নির্ভীকভাবে এগিয়ে আসেন। রাজনৈতক বিচক্ষণতা ও দূরদৃষ্টির দ্বারা তিনি প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে ইসলামকে আরবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বেকল তা-ই নয়, বেদুইনরা যখন নানাদিক দিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে, মুসলমানরা যখন বিভ্রান্ত ও দিশাহারা, তখন বেদুইনরা কিছু আপসরফা করার জন্য প্রস্তাব দেয়। অনেক মুসলমানই তখন একে ভালো মনে করে। কিন্তু আবু বকর (রা.) তাঁর দূরদর্শিতার বলে বুঝতে পেরেছিলেন যে, একবার ইসলামের অঙ্গচ্ছেদ ঘটলে সেটা তার মৃত্যুর শামিল হবে। তাই তিনি নির্ভীকচিত্তে ঘোষণা করেন, ‘ইসলাম এসেছে বিভ্রান্ত মানুষকে, সমাজকে, বিশ্বকে পথ দেখাতে— কোনো ভ্রান্তির সঙ্গে আপস করতে নয়। ’ উইলিয়াম মূর তাই ঠিকই বলেছেন, ‘আবু বকর না থাকলে বেদুইন গোত্রের সঙ্গে আপস করতে গিয়ে ইসলাম লোপ পেয়ে যেত অথবা অঙ্কুরেই এর নিশ্চিহ্ন হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি ছিল। আবু বকর (রা.) ইসলামকে এ অনিবার্য ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা করেন। ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় এবং এর সর্বাধিক দুঃসময়ে আবু বকর (রা.) একে রক্ষা করেছেন এবং সংকট উত্তরণে মরণপণ সংগ্রাম করেছেন। ইসলামের তরীকে বিপদসংকুল সমুদ্রবক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে আনার কৃতিত্ব তাঁরই। তাই মওলানা মুহম্মদ আলী বলেছেন, ‘প্রতিকূল ঝড়-সংকুল আবহাওয়ার মধ্যদিয়ে ইসলামের তরীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। ’ হজরত আবু বকরের খিলাফতকালের অন্যতম কীর্তি হলো পবিত্র কোরআন শরিফ সংকলন। মহানবী তাঁর জীবিতকালে কোরআন শরিফের আয়াতগুলো পুস্তকাকারে লিপিবদ্ধ করে যাননি। হজরত আবু বকরের সময়ে বহু কোরআনে হাফেজ যুদ্ধে মারা গেলে এর সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয়। হজরত আবু বকর হজরত ওমরের পরামর্শে যায়েদ-বিন-সাবেতের তত্ত্বাবধানে কোরআনের আয়াতগুলো সংগ্রহ করার আদেশ দেন। তার সময়েই সর্বপ্রথম কোরআন শরিফের আয়াতসমূহ একত্রে সন্নিবেশিত করা হয় এবং কালক্রমে এটি একটি সুসংঘবদ্ধ গ্রন্থের রূপ লাভ করে। কোরআন শরিফের রক্ষণাবেক্ষণে আবু বকরের দান অপরিসীম ও অসামান্য।

শাকিল জাহান

এই পাতার আরো খবর
up-arrow