Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫০
অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)
মুফতি আনিসুর রহমান জাফরী
অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)

বাহ্যিক চোখের আলো ছিল না তাঁর। তবে অন্তর্চক্ষুর আলো ঠিকই ছিল।

তাই তো তিনি হতে পেরেছেন ‘খাইরুল কুরুনীর’ প্রথম সারির সদস্য। হতে পেরেছেন প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রিয় সহচরদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি হলেন বিখ্যাত অন্ধ সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)। ইবনে হিব্বান (রহ.)-এর মতে, ‘তাঁর নাম ছিল হুসাইন। রসুল (সা.) পাল্টে রাখলেন আবদুল্লাহ। ’ তিনি ছিলেন হজরত খাদিজা (রা.)-এর আপন মামাতো মতান্তরে ফুফাতো ভাই। সেই হিসেবে তিনি রসুল (সা.) শ্যালক হন। প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী এবং ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, ‘হুয়া মিম্মান আসলামা কাদিমান। ’ অর্থাৎ ‘তিনি একেবারেই প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। ’ ইসলাম গ্রহণের কারণে তাকেও নির্মম নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল। শত নিপীড়নের মুখেও তিনি দীনুল ইসলাম থেকে একচুল পরিমাণও সরে দাঁড়াননি। নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে হিজরতের আদেশ আসে। আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-ই ছিলেন মদিনায় হিজরতকারী প্রথম দুজনের একজন।   উম্মে মাকতুম (রা.) মুসআব (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরতেন আর কোরআনের দাওয়াত এবং তালিমের কাজ করতেন। এ সম্পর্কে মদিনার আনসার সাহাবি হজরত বারা ইবনে আজেব (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.)-এর সাহাবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম উম্মে মাকতুম এবং মুসআব (রা.) মক্কা থেকে হিজরত করে আমাদের কাছে আসেন এবং তারা এসেই আমাদের মাঝে কোরআনের তালিম শুরু করে দেন। ’

আল্লাহর নির্দেশে রসুল (সা.) ও মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় এসে রসুল (সা.) উম্মে মাকতুম এবং বিলাল (রা.)-কে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করেন। কখনো বিলাল (রা.) আজান দিতেন আবার কখনো উম্মে মাকতুম (রা.) আজান দিতেন। একজন আজান দিলে অপরজন ইকামত দিতেন। রমজান মাসে বিলাল (রা.) সেহরির আজান দিতেন আর উম্মে মাকতুম (রা.) দিতেন ফজরের আজান। এ সম্পর্কে সহি বুখারিতে হাদিসও এসেছে। রসুল (সা.) যখন মদিনার বাইরে যেতেন, উম্মে মাকতুম (রা.)-কে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে যেতেন। শত শত সাহাবি তার পেছনেই নামাজ পড়তেন রসুল (সা.)-এর অনুপস্থিতিতে। তিনি নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদ থেকে বাড়ি দূরে থাকা সত্ত্বেও তিনি জামাত ত্যাগ করতেন না। তার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি ছিলেন পবিত্র কোরআনের হাফেজ।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মুুহীউস সুন্নাহ আইডিয়াল মাদ্রাসা, ডগাইর, ডেমরা, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow