Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১৫
ইতিবাচক সিদ্ধান্ত
রেলের দুর্নীতিও কমাতে হবে

বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন রেল স্টেশন আবারও চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গতকাল থেকে পুনরায় চালু হয়েছে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৬০টি রেল স্টেশন।

আরও ১২৮টি রেল স্টেশন পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবকে অজুহাত হিসেবে খাড়া করে গত এক যুগে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের ১৮৮টি রেল স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক গত বৃহস্পতিবার নরসিংদীর ঘোড়াশালে উপস্থিত হয়ে ওই স্টেশনটিসহ দেশের ৬০টি রেল স্টেশন পুনঃ চালুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। স্মর্তব্য, ১৮৮টি রেল স্টেশন বন্ধের পেছনে লোকবলকে অজুহাত হিসেবে খাড়া করা হলেও এর পেছনে সড়ক পরিবহন মালিকদের অপপ্রভাব কাজ করেছে বলে ব্যাপকভাবে সন্দেহ করা হয়। রেল স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এগুলোর জিনিসপত্রের একাংশ ইতিমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। চুরি যাওয়া তালিকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিও রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলস্টেশনগুলো পুনঃচালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম দফায় যে ৬০টি রেলস্টেশন চালু হচ্ছে তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২টি, পাকশির ২৩টি ও লালমনিরহাটের চারটি স্টেশন রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল স্টেশনগুলো চালু হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ রেল যোগাযোগের সুফল ভোগ করতে পারবে। সড়কপথের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ সুফল পেতে বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল স্টেশন পুনঃ চালুর পাশাপাশি বিনা টিকিটে যাতায়াতের ফাঁকফোকর বন্ধেরও উদ্যোগ নিতে হবে। বিনা টিকিটে ভ্রমণের জন্য রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি এবং দুর্নীতি অনেকাংশে দায়ী। উেকাচের বিনিময়ে যাত্রীদের বিনা টিকিটে যাতায়াতের যে সুযোগ তারা দিয়ে থাকেন তাতে লাগাম পরাতে হবে। সময়মতো ট্রেন ছাড়া এবং যাত্রাস্থলে পৌঁছানোর জন্যও নিতে হবে উদ্যোগ। বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি জাতীয় সম্পদ, দেশের ১৬ কোটি মানুষ যার মালিক। তাদের এ সম্পত্তি নিয়ে দুর্নীতি ও হরিলুট যাতে না চলে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা দরকার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow