Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ প্রিন্ট ভার্সন
আপডেট :
কোরআন ও রসুলের সুন্নত মুসলমানদের হাতিয়ার
আল্লামা মাহ্মূদুল হাসান
কোরআন ও রসুলের সুন্নত মুসলমানদের হাতিয়ার

‘যারা আল্লাহতায়ালা ও রোজ কেয়ামতের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক  স্মরণ করে, তাদের জন্য রসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। ’ (সুরা আহযাব : ২১)।

আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার মৃত সুন্নতগুলোকে জিন্দা কর। যখন মুসলমান সুন্নত ছেড়ে দেয় আর আমার ‘হাত’ থেকে সরে যায়, তখন তাদের আবার সুন্নতের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে আমার ‘হাতে’ এনে দাও। এ দায়িত্ব আলেমদের। এটি বুঝে আসলে সফলতা আর মুক্তি আলেমদের দোরগোড়ায়। আর না বুঝলে অন্য সবারও চেয়েও তারা নিচু দরজায়। সবাই জানি, ভাতের চেয়েও বিরিয়ানির মূল্য অনেক বেশি। কিন্তু বেশি মূল্যবান জিনিসে যখন পচন ধরে, তখন সেটা একেবারেই মূল্যহীন হয়ে যায়। ভাতে সামান্য গন্ধ ধরলেও সেটা পানি দিয়ে ধুয়ে কিংবা অন্য ভাতের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া যায়। পক্ষান্তরে বিরিয়ানিতে সামান্যতম গন্ধ ধরলে সাধ্য কার সেটা গলধঃকরণ করবে? আলেমরা হলো জাতির সেরেতাজ।

বিশাল সমুদ্র-গহ্বরে ঝিনুক পেটের ইয়াকুত। তাই এ মূল্যবান জিনিসের সুন্নতের পরশ না লাগলে সমাজে তারা বদ আলেম বলে পরিচিত হয়ে ওঠে। পরকালে তারা জাহান্নামের যে স্তরে কাফির ও মুনাফিকরা থাকবে, তার চেয়েও নিকৃষ্টতর স্তরে কীট-পতঙ্গদের দখলে থাকবে।

হজরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী (রহ.) বলেছিলেন, তোমরা চিৎকার করছ ঐক্য চাই, ঐক্য চাই। কিন্তু ঐক্যের পূর্বশর্ত হলো, আমাদের মাঝে বিনয়, ক্ষমা ও উদারতা থাকা। এসব গুণ ছাড়া একতার আশা শূন্য গোয়ালে দুধ চাওয়ার মতো। সমাজের ঐক্যে যে তালা লেগে আছে, এর চাবি হলো কেবল রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ও সুন্নত। কোরআন-হাদিস ছাড়া কখনো  একতা পয়দা হতে পারে না; বরং অনৈক্য ও এখতেলাফ বাড়তেই থাকবে। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে বলেছেন— ‘হে ইমানদাররা, তোমরা প্রকৃত ভীতিসহকারে আল্লাহকে ভয় কর এবং মুসলমান হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ কর না। আর তোমরা একযোগে সুদৃঢ়রূপে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর ও বিভক্ত হয়ে যেও না। (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)।

মৃত্যুর আগে প্রকৃত প্রস্তাবে মুসলমান হতে বলা হয়েছে উক্ত আয়াতে। আর মুসলমান হওয়া মানেই রসুলের আদর্শ একজনের মুখ ও হাত থেকে অন্যজনের নিরাপদ থাকা। অতএব মুসলমান হতে চাইলে কোরআনের ভিত্তিতে এক হওয়া ও সুন্নতের পতাকাতলে জড়ো হওয়া আবশ্যক। এ ছাড়া মুসলমান হওয়ার পথ নেই। যদি বলা হয়, দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা ও কামিয়াবির পথ কোনটি? তাহলে বলব, আমাদের এক হতে হবে। এক হওয়ার উপায় হলো কোরআনকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা। এর অর্থ হলো সুন্নতের পথ অবলম্বন করা। রসুলের দুই হাত (আল্লাহর কোরআন এবং রসুলের সুন্নত) হলো মুসলমানদের হাতিয়ার। এগুলো নিয়ে উম্মতের কাছে যেতে পারলেই উম্মত বাঁচবে; নাজাত পাবে।   কোরআন ও সুন্নতের বরকতে, ইমান আমলের উসিলায় দুনিয়া ও আখেরাতে সবই চলে আসবে আমাদের কদমতলে।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ, ঢাকা।

আপনার মন্তব্য

up-arrow